
৫৪ লাখ টাকা জরিমানা এড়াতে জমি বিক্রির পাঁয়তারা: রংপুরে প্রতারক ওয়াহেদুলের সম্পত্তি কিনলেই নিশ্চিত অর্থ ও জমি আত্মসাৎ!
শহীদুল ইসলাম রংপুর অফিস
পাবনার বিজ্ঞ যুগ্ম দায়রা জজ ১ম আদালতে চেক প্রতারণা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত মো. ওয়াহেদুল ইসলামের রংপুর ও মিঠাপুকুরের সম্পত্তি নিয়ে চরম জালিয়াতির তথ্য সামনে এসেছে। আদালতের ৫৪ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের রায় ও সম্পত্তি ক্রোক এড়াতে ওই সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি তার সহযোগীদের মাধ্যমে গোপনে জমি বিক্রি করে পালানোর চেষ্টা করছে। আইনজীবীরা সতর্ক করেছেন, এই সম্পত্তি ক্রয় করলে ক্রেতারা নিশ্চিতভাবে প্রতারিত হবেন এবং জমি ও টাকা দুটোই হারাবেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, দায়রা মামলা নং- ১২৮৪/২০২৫ [মূল সি.আর মামলা নং- ১০১৪/২৪] মামলায় আসামি মো. ওয়াহেদুল ইসলাম (NID: 3708630888), পিতা- মো. নুর ইসলাম, সাং- কাঁঠুর উত্তর, থানা- ফুলছড়ি, জেলা- গাইবান্ধা-এর বিরুদ্ধে The Negotiable Instruments Act, 1881 এর ১৩৮ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫৪,০০,০০০/- (চুয়ান্ন লক্ষ) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। মামলার বাদী ছিলেন মো. ওমায়ের ইসলাম।
গত ০৪.১০.২০২৬ তারিখের আদেশ নং-১১ এ বিজ্ঞ আদালত উল্লেখ করেন, আসামি কোনো টাকা পরিশোধ বা আপিল করেননি। ফলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬(১)(খ) ধারা অনুযায়ী অর্থ আদায়ের জন্য পাবনার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগামী ২১ নভেম্বর একই আদালতে তার বিরুদ্ধে আরও ১৪ লাখ টাকার আরেকটি মামলার [এস.সি ১২৮৫/২০২৫] রায় ঘোষণার দিন ধার্য রয়েছে।
রংপুরে ৫টি খতিয়ানের সম্পত্তি ও জালিয়াতির পাঁয়তারা:
সরকারি অনলাইন পর্চা অনুযায়ী সাজাপ্রাপ্ত ওয়াহেদুলের নামে রংপুর মহানগর ও মিঠাপুকুরে বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। চিহ্নিত খতিয়ানগুলো হলো:
• রংপুর মহানগর সার্কেল (মুলাটোল মৌজা): খতিয়ান নং- ২৫-৬১৮
• মিঠাপুকুর (পবিত্রর পশ্চিমপাড়া মৌজা): খতিয়ান নং- ২০২৬-১০০০১১
• মিঠাপুকুর (পবিত্রর পশ্চিমপাড়া মৌজা): খতিয়ান নং- ২০২৬-১০০০২৩
• একই মৌজার খসড়া খতিয়ান (২৫-৬১৮ সংশ্লিষ্ট) ও অন্যান্য সহযোগী দাগসমূহ।
আদালতের ক্রোক নির্দেশ ফাঁকি দিতে এই মূল্যবান জমিগুলো দ্রুত বিক্রি, বায়না ও নামজারি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে একটি চক্র।
৪ সরকারি দপ্তরে আইনজীবীর নিষেধাজ্ঞা জারি:
এই বড় ধরনের জালিয়াতি রুখতে পাবনা জজ কোর্টের বিজ্ঞ আইনজীবী মো. সাইফুল ইসলাম সুরুজ গত ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে রংপুরের ৪টি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে লিখিত আবেদন দাখিল করেছেন। ডাক বিভাগের রেজিস্ট্রি ডাকের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র (AD) অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো আবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ ও নথিভুক্ত করেছে:
• সাব-রেজিস্ট্রার, মিঠাপুকুর (DL943511479BD) – গ্রহণ: ২৪/১০/২৬
• সাব-রেজিস্ট্রার, রংপুর সদর (DL943511519BD) – গ্রহণ: ২৪/১০/২৬
• সহকারী কমিশনার (ভূমি), মিঠাপুকুর (DL943511451BD) – গ্রহণ: ২৪/১০/২৬
• সহকারী কমিশনার (ভূমি), রংপুর সদর (DL943511496BD) – গ্রহণ: ২৬/১০/২৬
আবেদনে আদালতের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই সমস্ত জমির রেজিস্ট্রি, বায়না বা মিউটেশন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আইনজীবীদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, CrPC ৩৮৬ ধারা অনুযায়ী সরকারিভাবে এই সম্পত্তি নিলামে উঠবে। এই অবস্থায় কেউ গোপনে জমি কিনলে সেই দলিল সম্পূর্ণ অবৈধ ও বাতিল বলে গণ্য হবে। ক্রেতা টাকা ও জমি হারানোর পাশাপাশি ফৌজদারি অপরাধের মামলায় জড়িয়ে পড়বেন।
তাই রংপুর ও মিঠাপুকুর এলাকার সর্বসাধারণকে ওয়াহেদুল ইসলামের নামীয় কোনো সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় বা বায়নামা করা থেকে বিরত থাকার জন্য বিশেষভাবে সতর্ক করা হলো। যেকোনো জমি ক্রয়ের আগে অবশ্যই সাব-রেজিস্ট্রি ও এসি ল্যান্ড অফিস থেকে NOC ও আদালতের নিষেধাজ্ঞা যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।





