
মনিরামপুরে নিউজ প্রকাশের পরও থামেনি ফসলি জমি ধংসের উৎসব
১০ দিনেও সরজমিনে যায়নি ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক :
যশোরের মনিরামপুরে সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ফসলি জমিতে বেআইনিভাবে ঘের খনন এবং মাটি বিক্রির উৎসব যেন থামছেই না। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরও স্থানীয় প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ঘের খনন কাজ এখন প্রায় শেষের পর্যায়ে। এরই মধ্যে সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে মাটিবাহী গাড়ির কারণে গ্রামীণ রাস্তাঘাট ভেঙে কাদা-মাটিতে একাকার হয়ে গেছে। ফলে কোমলমতি স্কুলগামী শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নে প্রশাসনের কোনো অনুমতি ছাড়াই প্রায় ১২ বিঘা ফসলি জমিতে এই ঘের খনন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। জমির মূল মালিক সৌরভ ও তার সহযোগীরা (সৌরভ গং) মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এই বিশাল ফসলি জমি মহসিন নামে এক ব্যক্তির কাছে লিজ দিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লিজ গ্রহীতা মহসিন এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচিত। সরকারি অনুমতি ছাড়া কীভাবে ফসলি জমিতে ঘের খনন করা হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে মহসিন এর আগে স্বীকার করেছিলেন যে, তাদের কাছে কোনো বৈধ অনুমতি নেই। তবে “অনুমতির প্রক্রিয়া চলছে” বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে এই অবৈধ ঘের খননের নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিয়ে চলছে কাদা ছোড়াছুড়ি। জমির মালিক সৌরভের দাবি, এই ঘের খননের কাজ করছেন মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিন্টু। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা মিন্টু। মুঠোফোনে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই ঘের খনন বা মাটি বিক্রির বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এবং এর সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘের খনন এলাকার পাশেই রয়েছে স্থানীয় বাজার, বসতবাড়ি ও স্কুল। শুষ্ক দিনে বাতাসে ধুলোবালি উড়ে এলাকা অন্ধকার হয়ে থাকতো, আর এখন সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কাদার কারণে শিশুরা ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারছে না, প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। অতিষ্ঠ এলাকাবাসী এই নরকযন্ত্রণা থেকে দ্রুত নিস্তার চান।
স্থানীয়রা জানান, সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি রোহিতা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে (নায়েব) জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থলে সরজমিনে পরিদর্শনে যাওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু অত্যন্ত রহস্যজনকভাবে গত ১০ দিনেও তিনি ওই স্থানে যাননি। ততক্ষণে ফসলি জমি কেটে ঘের তৈরির কাজ প্রায় সম্পন্ন করে ফেলেছে প্রভাবশালী মহলটি।
রোহিতা ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তাকে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার সময় করে যাওয়া হয়নি।
অভিযোগ উঠেছে, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এমন নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে। এলাকাবাসীর সরাসরি প্রশ্ন— ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও অভিযুক্ত পক্ষের মধ্যে পর্দার আড়ালে কোনো অনৈতিক ‘সমঝোতা’ হয়েছে কি না?
এর আগে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফসলি জমি রক্ষা এবং গ্রামীণ সড়ক পুনরদ্ধারে উর্ধ্বতন প্রশাসনের আশু ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।





