
সিলেট এমসি কলেজ, ১৮৯২ সালের ২৭ জুন এই বিদ্যাপীঠ জাতির উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য জন্ম নিয়েছিলো। অনেক কৃতিত্ব আর সুনাম কুড়িয়ে সিলেটের শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে এই পাঠ্য প্রতিষ্ঠান।
আল আমিন সুমন আহমদ
উপজেলা প্রতিনিধি, বিশ্বনাথ
শ্যামলকন্যা ‘এমসি কলেজের’ ১৩৪ বছরে পদার্পণ, ৩৮টি সিঁড়ি বেয়ে যেতে হয় প্রশাসনিক ভবনে। সেখান থেকে পুরো কলেজের নান্দনিকতা একসঙ্গে উপভোগ করা যায়। দেশের অন্যতম প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মুরারিচাঁদ কলেজ “এমসি কলেজ” নামেই বেশি পরিচিত।
কলেজের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বেশ মনোরম। হরেক রকম গাছ আর শত বছরের পুরোনো দালান দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। ক্যাম্পাসে রয়েছে আঁকাবাঁকা রাস্তা আর ছোট ছোট টিলা। একাডেমিক ভবনের পাশে রয়েছে একটি বড় পুকুর। পুকুরের চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে নানা প্রজাতির গাছ আর ঘাস। অনেক শিক্ষার্থী পুকুরপাড়ে নিজেদের মতো করে সময় কাটান। ক্লাসের ফাঁকে কেউ দলবদ্ধ হয়ে গ্রুপ স্টাডি করেন। কেউবা একতারা, তবলা, গিটার বাজিয়ে বন্ধুদের গান শোনান। কেউ শুধুই গল্পগুজবে ব্যস্ত থাকেন।
এমসি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৯২ সাল, সিলেটের বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী রাজা গিরিশ চন্দ্র রায় কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। আগে কলেজের অবস্থান ছিল সিলেট মহানগরীর বন্দরবাজারের কাছে রাজা জিসি উচ্চ বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী স্থানে। ১৮৯১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজটিতে এফএ অর্থাৎ বর্তমানের উচ্চ মাধ্যমিকের ক্লাস খোলার অনুমতি দিলে ১৮৯২ সালের ২৭ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে এমসি কলেজ যাত্রা করে। কলেজটি ১৯১২ সালে সরকারি কলেজ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯১৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিক বিজ্ঞান ক্লাস ও স্নাতক শ্রেণিতে পাঠদান শুরু হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় কলেজের স্থান পরিবর্তন করে শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে বর্তমান সিলেটের টিলাগড়ে ১২৪ একর জায়গায় স্থানান্তরিত হয়। তখন কলেজের শিক্ষার্থী ছিল মাত্র ৫৬৮ জন। বর্তমানে আছে ১৩ হাজারের ওপরে। এখানে ১৫টি বিষয়ে স্নাতক ও ১৬টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর কোর্স চালু আছে। এমসি কলেজের পূর্বে রয়েছে সিলেট সরকারি কলেজ এবং উত্তরে রয়েছে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। কলেজের সুবিশাল ক্যাম্পাসে রয়েছে একটি বিশাল খেলার মাঠ। আরও আছে ক্যান্টিন, শহীদ মিনার, ২৫ হাজারের অধিক বই নিয়ে গ্রন্থাগার, স্পোর্টস রুম, অডিটরিয়াম, মসজিদ, বিপন্ন উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্নার, ছাত্রছাত্রীদের আবাসিক হোস্টেল ও বিভিন্ন বিভাগীয় ভবন। এবং কলেজের নতুন সংযুক্তি হচ্ছে বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল, দৃষ্টিনন্দন ফটক। সেই সাথে পুকুড়পাড়ের নব্যনির্মিত সিঁড়ি পুকুরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে বহুগুন।
শিক্ষার্থীরা শুধু ক্লাসক্লাসরুমে পড়ালেখার মধ্যেই থেমে নেই। নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গেও তারা জড়িত। এমসি কলেজে রয়েছে নাটক সংগঠন থিয়েটার মুরারিচাঁদ, মোহনা সাংস্কৃতিক সংগঠন, জাতীয় কবিতা পরিষদ, ফটোগ্রাফি সোসাইটি, রোভার স্কাউট, বিএনসিসি, ধ্রুবক ক্লাব, বোটানিক্যাল ক্লাব, ইকোনমিকস ক্লাব ও কেমেস্ট্রি ক্লাব। বছরজুড়েই নানা অনুষ্ঠান চলে ক্যাম্পাসজুড়ে। মোহনা সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিবছর বাংলা নববর্ষ, বসন্তবরণ ও বর্ষাবরণ আয়োজন করে। দেশাত্নবোধন গানে স্বর্ণজয়ের রেকর্ড ও রয়েছে মোহনার। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর এই বিদ্যাপীঠের জন্মদিন আজ, আমরা গর্বিত আমাদের কলেজ নিয়ে, আমরা গর্বিত এই কলেজের শিক্ষার্থী হতে পেরে।





