
ভূরুঙ্গামারীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অর্ধশতাধিক দোকান পুড়ে ছাই, কোটি টাকার ক্ষতি; ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দাবিতে ক্ষোভ
মোঃ জাফর আহমেদ, কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা | ৫ জুন ২০২৬
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৫০টি ছোট-বড় দোকানঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখায় ব্যবসায়ীদের বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা স্বপ্ন, পুঁজি ও জীবিকার অবলম্বন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা কয়েক কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে উপজেলার একটি ব্যস্ত বাজারে আগুনের সূত্রপাত হয়। স্থানীয়দের ধারণা, বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। বাজারজুড়ে থাকা কাপড়, কসমেটিকস, ফলসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকানে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে।
ভুক্তভোগীরা জানান, ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় কোনো ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় আগুন লাগার পরপরই পাশের নাগেশ্বরী উপজেলা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। কিন্তু দূরত্বের কারণে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এর মধ্যে আগুন ভয়াবহ রূপ ধারণ করে এবং একের পর এক দোকান পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের অনেকেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তাদের দোকানে থাকা সব মালামাল আগুনে পুড়ে গেছে। ঈদ ও মৌসুমি ব্যবসাকে সামনে রেখে অনেকেই ঋণ নিয়ে পণ্য তুলেছিলেন। এখন তারা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
একাধিক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভূরুঙ্গামারীতে যদি একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থাকত, তাহলে হয়তো এত বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হতো না। আমরা বছরের পর বছর ধরে এই দাবি জানিয়ে আসছি, কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী ও জনবহুল এই উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় আগুন, দুর্ঘটনা কিংবা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এ ঘটনার পর আবারও জোরালোভাবে উঠেছে ভূরুঙ্গামারীতে একটি পূর্ণাঙ্গ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবি।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেব নাথ বলেন, “অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নির্ণয়ের কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।”
এই অগ্নিকাণ্ড শুধু কয়েকটি দোকান পুড়ে যাওয়ার ঘটনা নয়; এটি বহু পরিবারের জীবিকা, স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের ওপর এক নির্মম আঘাত। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দ্রুত পুনর্বাসনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় মোকাবিলায় ভূরুঙ্গামারীতে জরুরি ভিত্তিতে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করা হবে।





