
কুড়িগ্রাম সীমান্তে ফের পুশইনের চেষ্টা, নারী-শিশুসহ ৬ জনকে ঠেলে দিতে চাইল বিএসএফ, বিজিবির কড়া নজরদারি
মোঃ জাফর আহমেদ কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতাঃ
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে আবারও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ছয়জনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় চরম সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয়দের মাঝেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
রোববার (১৪ জুন) সকালে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়ন এর গয়টাপাড়া সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ভারতের ঝালুর চর বিএসএফ ক্যাম্প থেকে নারী ও শিশুসহ ছয়জনকে বাংলাদেশে পুশইনের উদ্দেশ্যে সীমান্তের দিকে নিয়ে আসা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বর্তমানে ওই ছয়জন ভারতীয় ভূখণ্ডের প্রায় ৫০ গজ ভেতরে অবস্থান করছেন। খবর পেয়ে গয়টাপাড়া বিওপি ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা দ্রুত সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেন এবং সম্ভাব্য পুশইন প্রতিরোধে টহল ও নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দেন। একই সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীকেও সতর্ক করা হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সোনা মিয়া বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে লোকজনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার একাধিক চেষ্টা উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তাই গয়টাপাড়া সীমান্তে যে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা প্রতিরোধে সবাই সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর যে কোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
গয়টাপাড়া বিওপি ক্যাম্পের হাবিলদার মাসুদ রানা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সীমান্তে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি যেন না হয়, সেজন্য বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের পুশইনের চেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।”
সাম্প্রতিক এই ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তে এমন ঘটনা বারবার ঘটায় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।





