বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন [gtranslate]
ব্রেকিং নিউজঃ
চৌদ্দগ্রামের গুনবতীতে ছেলের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর ভয়ে ঘর ছাড়া মা। ২৮ অক্টোবরের লগি বৈঠার তাণ্ডব ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবীতে নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত আওয়ামীলীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি সন্ত্রাসী বাহিনী—– মাসুদুর রহমান গিয়াস ঠাকুর গাঁও এ ২৮ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালন ২০২৬ঃ কটিয়াদীতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনায় ​ এমপি মোঃ জালাল উদ্দিন শাবিপ্রবিতে উদযাপিত হলো ‘কোরিয়ান কালচারাল ডে ২০২৬’ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিলেটে সিসিকের বিশেষ উদ্যোগ, ৪২ ওয়ার্ডে মশক নিধন অভিযান ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে নারায়ণগঞ্জে জামায়াতের বিক্ষোভ ‘আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি সন্ত্রাসী বাহিনী’—মাসুদুর রহমান গিয়াস নওগাঁর ধামইরহাটে পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবদল নেতার আমন ধানে প্রকাশ্য দিবালোকে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ, থানায় এজাহার সনাতন ধর্মালম্বীদের ভালোবাসায় সিক্ত প্রশাসক নূরনবী ভূঁইয়া গাইবান্ধায় পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত
বিজ্ঞপ্তিঃ
ব্রেকিং নিউজ*** দেশও বিদেশ খবর পেতে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন।*বিজয় ২৪ টিভি  খবর ও বিজ্ঞাপন প্রচার করতে  যোগাযোগ করুন:gmail :bijoy24tv2024@gmail.com* হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার ০১৭৪৩৮৮৯০৬৮।*সবার পাশে Bijoy 24 TV* আপনারা দেখছেন বিজয় ২৪ টিভি ধন্যবাদ।
বন্যার পানি কমতেই কুড়িগ্রামে ভাঙনের থাবা, বিলীন বসতভিটা-ফসলি জমি
/ ৫২ Time View
Update : বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ন

বন্যার পানি কমতেই কুড়িগ্রামে ভাঙনের থাবা, বিলীন বসতভিটা-ফসলি জমি

মোঃ জাফর আহমেদ কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতাঃ-০১-০৭-২৬
কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি কমে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ভয়াবহ আকার নিয়েছে নদীভাঙন। জেলার বিভিন্ন নদীতীরে ৩৬টি পয়েন্টে তীব্র ভাঙনে প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও স্থাপনা। একদিকে ঘর হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে হাজারো পরিবার, অন্যদিকে বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শত শত হেক্টর কৃষিজমি।

বুধবার (১ জুলাই) সকাল ৯টার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ধরলা নদীর কুড়িগ্রাম সেতু পয়েন্টে পানির স্তর বিপৎসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে । দুধকুমার নদীর পাটেশ্বরী পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২৭ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে, সেখানেও পানি হ্রাস পাচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র নদীর চিলমারী পয়েন্টে পানির স্তর বিপৎসীমার ৭৬ সেন্টিমিটার নিচে নেমেছে এবং কমতির ধারায় রয়েছে। অন্যদিকে তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানি সামান্য বাড়লেও তা এখনও বিপৎসীমার ৩১ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। ফলে জেলার প্রধান চারটি নদ-নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে।
তবে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গেই ধরলা, দুধকুমার, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের তীরজুড়ে শুরু হয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের ধাউরারকুটি, পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পাইকডাঙ্গা, নাগেশ্বরীর বামনডাঙ্গা, চিলমারীর কড়াই বরিশাল, রাজারহাটের রামহরি এবং সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া ও সরকারপাড়া এলাকা।
ভুরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের ধাউরারকুটি গ্রামের ফারুক হোসেন বলেন, দফায় দফায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে জিও ব্যাগ ফেলার আবেদন করেছি, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গত পাঁচ দিনে আমাদের গ্রামের ৩০ থেকে ৩৫টি বাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। এখন আমরা সর্বস্ব হারিয়ে ভূমিহীন। প্রতিবছর ভাঙন রোধের নামে কোটি কোটি টাকা খরচের কথা বলা হলেও বাস্তবে কোনো কাজ চোখে পড়ে না।

সদর উপজেলার যাত্রপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের রিপন মিয়া বলেন, ছয় মাস ধরে ভাঙন ঠেকাতে আবেদন করেছি, মানববন্ধন করেছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। জনপ্রতিনিধিরা শুধু আশ্বাস দিয়েছেন। এখন সরকারপাড়া ও বানিয়াপাড়ার প্রায় তিন শতাধিক পরিবার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আমরা শুধু নদীভাঙন থেকে বাঁচতে চাই। ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের চর বারইবাড়ি ধরলা নদীর বাঁধের মাথা ভেঙে যায় সঙ্গে কয়েকটি বসতবাড়ি ও বন্যার স্রোতে ভেসে যায়, কৃষক ডিপজল বলেন আমরা চরবড়াইবাড়ি লোকজন বাড়ি থেকে বাইর হতে পারতেছে না চতুর্দিকে বন্যার পানি যাতায়াতের ব্যবস্থা নেই।

কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা চর উন্নয়ন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু বলেন,
“বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই কুড়িগ্রামে নদীভাঙনের এমন ভয়াবহ চিত্রে উদ্বেগ বাড়ছে। নদীপাড়ের মানুষের দাবি—শুধু সাময়িক জিওব্যাগ ফেলে এই স্থায়ী সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ভাঙন থেকে কুড়িগ্রামকে বাঁচাতে স্থায়ী নদীশাসনের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক। নইলে প্রতিবছরের মতো এবারও শত শত পরিবার নদীগর্ভে হারাবে তাদের শেষ সম্বল।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের ৪৯৯ হেক্টর জমির পাট, চীনাবাদাম, আউশ, আমনের বীজতলা ও মরিচের ক্ষেত বন্যার পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। এতে কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, উজানে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে আবারও নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে। তাই নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ভাঙন মোকাবেলায় অতিরিক্ত জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বেনজির আহমেদ জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ২৮৫ মেট্রিক টন জিআর চাল, ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং ৮০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Our Like Page

Archive Calendar

Verified by MonsterInsights