
রাজশাহী তানোরে খাদ্যগুদামে ধান সরবরাহে অনিয়ম।
সিনিয়র রিপোর্টারঃ মোঃ রাকিবুল ইসলাম মিঠু।
রাজশাহীতে তানোরের সরকারি খাদ্য গুদামে ধান সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
সরকার কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরাসরি কৃষ কের কাছ থেকে ধান (ক্রয়) সংগ্রহের উদ্যোগ নিলেও একটি সিন্ডিকেট চক্রের কারণে সেই কর্মসূচি ঘিরে অনি য়মের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত কৃষকের পরিবর্তে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্বভোগী কৃষকের পরিচয় (কার্ড) ব্যব হার করে গুদাম কর্মকর্তার যোগসাজশে সরকারি খাদ্য গুদামে ধান সরবরাহ করছে।
নিয়মানুযায়ী কোনো অবস্থাতেই কৃষকদের খাদ্য গুদাম থেকে বস্তা সরবরাহের কোনো নিয়ম নাই! কৃষক তাদের বস্তায় ধান নিয়ে সরকারি খাদ্য গুদামে আসবে ন।
গুদামের শ্রমিক সেই ধান বিনির্দেশ মানের হলে সরকারি বস্তায় গ্রহন করবেন।কিন্তু তানোর খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা, এএসআই ও নিরাপত্তা প্রহরীরা টন প্রতি আর্থিক সুবিধা নিয়ে গোপণে মিলারদের কাছে সরকারি বস্তা সরবরাহ করছে।
আবার গুদামে সেই বস্তায় ধান নিচ্ছেন যা সরকারি পরি পত্র বর্হিভুত। এতে সরকারি ক্রয় কর্মসূচির উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, একটি বয়লারে (চাতাল বিপুল পরিমাণ ধান মজুদ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয়ের এক প্রভাবশালীর মাধ্যমে এসব ধান সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তানোর খাদ্য গুদামে সরবরাহের প্রস্তুতি চলছে।
সূত্রগুলোর দাবি, সম্প্রতি ওই বয়লারে খাদ্য অধিদপ্তরের সিলযুক্ত একাধিক বস্তা দেখা গেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, সরকা রি খাদ্য গুদামে সরবরাহের উদ্দেশ্যে কয়েকশ মন ধান সেখানে মজুদ রাখা হয়েছে। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, নওগাঁ, পাবনা ও রংপুরের পীরগাছা থেকে ধান সংগ্রহ করে তা তানোর উপজেলার কৃষকের উৎপাদিত ধান হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তা সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহ নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং স্থানীয় কৃষকদের জন্য বড় ধরনের বঞ্চনা।
এছাড়াও তানোর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (টিসি এফ) পারভিন ও সরকারি গুদাম কর্মকর্তা (এলএসডি) আফরোজা খাতুন সরকারি অফিস সময় মানছেন না।
তারা দুজনেই রাজশাহী শহরে বসবাস ও শহর থেকে অফিসে যাতায়াত করেন। যেকারণে তারা কখানোই অফিসে সময় মতো আসতে পারেন না।
জানা গেছে,তানোরে চলতি বছরের ১৯মে মঙ্গলবার ধান-কেনা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।২০২৬ সালের অভ্য ন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৪৯ টা কা কেজি দরে অটো ও হাস্কিং মিল থেকে ৪০৬ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল ও ৩০০ মেট্রিক টন গম এবং ৩৬ টাকা কেজী দরে এক হাজার ৫৬০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে। আগামী ৩১ আগস্ট এই কার্যক্রম চলবে।
এবিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (টিসিএফ) পারভিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করেই শুধু প্রকৃত কৃষক দের কাছ থেকে ধান গ্রহণ করা হচ্ছে। কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই।
এবিষয়ে তানোর সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এলএসডি) আফরোজা খাতুন অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ২০২৬ সালের অভ্যন্তরীণ খাদ্যশ স্য সংগ্রহ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৪৯ টাকা কেজী দরে অটো ও হাস্কিং মিল থেকে ৪০৬ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল ও ৩০০ মেট্রিক টন গম এবং ৩৬ টাকা কেজী দরে এক হাজা র ৫৬০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে। আগামী ৩১ আগস্ট এই কার্যক্রম চলবে।
এদিকে উপজেলার প্রায় অর্ধশতাধিক কৃষকের সঙ্গে সরকারি ধান সংগ্রহ অভিযানের বিষয়ে কথা হলে তাদের প্রায় সবারই বক্তব্য ছিল কাছাকাছি, সরকার ধান কেনে বলে শুনেছি। কিন্তু কীভাবে কখন ধান নেয়, সেই বিষয়ে ধারণা নেই তাদের।
এ বিষয়ে কোনো প্রচার চোখে পড়েনি তাদের। বেশিরভাগ কৃষক জানেন না, সরকার কত টাকা মূল্যে ধান কিনছে। সরকারি গুদামে কতটুকু পর্যন্ত ধান দেওয়ার অধিকার রয়েছে একজন কৃষকের।





