
শ্রীপুরে স্ত্রী হত্যা: ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই স্বামী গ্রেপ্তার
গাজীপুর প্রতিনিধি:আল আমিন খান
গাজীপুরের শ্রীপুরে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী নাছিমা আক্তারকে (২৭) হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী সাইদুর রহমানকে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করার পাশাপাশি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত নাছিমা আক্তার নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার কৈলশাপুর (বনপাড়া) এলাকার মৃত আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে। প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর আগে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার ঐরাগাই (গিদ্দাপাড়া বড়বাড়ী) এলাকার লাল হোসেনের ছেলে সাইদুর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে আট বছর বয়সী এক কন্যা ও পাঁচ বছর বয়সী এক পুত্রসন্তান রয়েছে। তারা শ্রীপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ী এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। নাছিমা একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন।
তদন্তে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ জুলাই রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিট থেকে ৩টার মধ্যে সাইদুর রহমান ধারালো অস্ত্র দিয়ে নাছিমার বুক ও পেটে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর শ্রীপুর থানা পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মো. মাসুম মিয়া বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় ৩০২ ধারায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় এসআই (নিরস্ত্র) সাদী মোহাম্মদের ওপর।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দিনের নির্দেশনায় শ্রীপুর থানা পুলিশের একাধিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং র্যাব-১-এর স্পেশালাইজড কোম্পানি, পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের সহযোগিতায় অভিযান চালায়। অভিযানে ১৩ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে গাজীপুর মহানগরের বাসন থানার ভোগড়া বাইপাস এলাকা থেকে সাইদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্ত্রী হত্যার দায় স্বীকার করেন। পরে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আদালতে হাজির করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি মামলার তদন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যাতে ঘটনার সব দিক উদঘাটন করা যায়।





