
নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্বধলা উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে তৃণমূলের ক্ষোভ,অভিযোগ জেলা আওয়ামীলীগের দিকে
সাগর আহমেদ জজ,,
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন কোথায়?
গতকাল শুক্রবার ৩১ শে জুলাই নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলা আওয়ামী লীগের নবগঠিত কমিটি ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
দীর্ঘদিন মাঠে-ময়দানে রাজনীতি করা, দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকা এবং বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দলের পক্ষে অবস্থান নেওয়া বহু নেতাকর্মীর দাবি, নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তাদের অবদান ও ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি।
স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক নেতাকর্মীর অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময় থেকে যারা দলের কঠিন সময়ে রাজপথে, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়ভাবে দলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তাদের অনেকেই কমিটিতে স্থান পাননি। বরং গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে এমন অনেককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাদের সাম্প্রতিক সময়ে দৃশ্যমান সাংগঠনিক ভূমিকা ছিল না বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বা “ভাইটাল” পদগুলোর প্রায় ৯৮ শতাংশে এমন ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হয়েছে, যারা দীর্ঘ সময় ধরে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রমে অনুপস্থিত ছিলেন। এতে দলের নিবেদিতপ্রাণ ও পরীক্ষিত কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। অনেকের ভাষ্য, দলের কঠিন সময়ে যারা নীরব ছিলেন, তারা এখন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন; অথচ যারা নিরবচ্ছিন্নভাবে দলের জন্য কাজ করেছেন, তারা উপেক্ষিত হয়েছেন।
তৃণমূল পর্যায়ের কিছু নেতাকর্মী আরও দাবি করেছেন, জেলা পর্যায়ের প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে কমিটিতে স্থান নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্যে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি, তবুও বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, যদি এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত না হয়, তাহলে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন, একটি রাজনৈতিক দলের শক্তি তার তৃণমূল। সেই তৃণমূলের মতামত ও ত্যাগকে উপেক্ষা করে যদি কমিটি গঠন করা হয়, তবে কর্মীদের মনোবল ভেঙে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতে সাংগঠনিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তৃণমূলের দাবি, নতুন কমিটি নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। কারা বাস্তবে মাঠে সক্রিয় ছিলেন, কারা দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কী কী মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে—এসব বিষয় স্বচ্ছভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
দলের নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দলের প্রতি দীর্ঘদিনের অবদানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তাদের বিশ্বাস, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে দল পরিচালিত হলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে এবং তৃণমূলের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।





