
ঘন ঘন লোডশেডিং ও অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলে ঈদগাঁওবাসী অতিষ্ঠ
কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ লোডশেডিং ও অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল নিয়ে চরম ভোগান্তি ও ক্ষোভ বিরাজ করছে গ্রাহকদের মধ্যে। একদিকে দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ দিন দিন বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এতে শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন। বিশেষ করে রাতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে স্বাভাবিক ঘুম ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ভুক্তভোগীরা।
ব্যস্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র ঈদগাঁও বাজারেও লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে। বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল কম্পিউটার, ফটোকপি, প্রিন্টিং, রাইস মিলসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। বিদ্যুৎ থাকলেই কেবল তাদের আয়ের চাকা সচল থাকে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে বাজারকেন্দ্রিক হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ডেন্টাল ক্লিনিকগুলোতেও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। ফ্রিজে সংরক্ষিত দামী ইনজেকশন, ওষুধ ও রোগীর প্রয়োজনীয় সামগ্রী বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একইভাবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফ্রিজ, পানির মোটর, রাইস কুকারসহ বিদ্যুৎনির্ভর যন্ত্রপাতি ব্যবহারকারীরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। লোডশেডিংয়ের কারণে ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হচ্ছে। মসজিদে নামাজ আদায়ের সময়ও মুসল্লিদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
কয়েকজন নারী জানান, ঘণ্টা না পেরোতেই বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশুদের নিয়ে চরম কষ্টে রাত কাটাতে হচ্ছে। শুধু লোডশেডিং নয়, অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল নিয়েও সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ বিষয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন লিখেছেন, “লোডশেডিং চলছে, আবার বিদ্যুৎ বিলও প্রায় দ্বিগুণ। বিষয়টি সরকারকে গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা উচিত।”
রাশেদুল ইসলাম লিখেছেন, “সারারাত বিদ্যুৎ থাকে না। আগে যেখানে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বিল আসত, এখন ১,৫০০ থেকে ২,০০০ টাকা আসছে।”
এমডি আরাফাত সিকদার মন্তব্য করেন, রাতের লোডশেডিংয়ের সুযোগে চুরি-ডাকাতির ঝুঁকি বাড়ছে। বিদ্যুৎ থাকলে রাস্তাঘাট আলোকিত থাকত এবং অপরাধীরা সুযোগ পেত না।
দিদারুল ইসলাম এমইউপি অভিযোগ করে লিখেছেন, “বর্তমান বিদ্যুৎ বিলের নামে যেন হরিলুট চলছে। যাদের ৫০০ টাকা বিল আসত, তাদের এখন ২,০০০ টাকা এবং ৩,০০০ টাকার বিল এখন ৭,০০০ টাকায় পৌঁছেছে।”
এমডি লেদু মিয়া অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে মানববন্ধনের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে লায়েক ইবনে ফাজেল অযৌক্তিক বিদ্যুৎ বিল প্রত্যাহার করে সহনীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
ভুক্তভোগী গ্রাহক ছৈয়দ করিম বলেন, “সারাদিন কাজের পর রাতে বাড়িতে এসেও শান্তি নেই। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে স্বাভাবিকভাবে ঘুমানো যায় না। দ্রুত এ সমস্যা সমাধান করা প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ঈদগাঁও জোনাল অফিসের এজিএম (ও অ্যান্ড এম) মো. আলমগীর কবির স্বাক্ষরিত এক নোটিশে জানানো হয়, বর্তমানে ঈদগাঁও জোনাল অফিসের অফ-পিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৭ মেগাওয়াট হলেও বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০ মেগাওয়াট। ফলে প্রায় ৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদনের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় সিস্টেম সচল রাখতে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করা হচ্ছে। এছাড়া ঈদগাঁও ৩৩ কেভি ফিডারে আন্ডার-ফ্রিকোয়েন্সি রিলে সংযুক্ত থাকায় জাতীয় লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার (এনএলডিসি) থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে এসকাডা (SCADA) অপারেশনের মাধ্যমে অনেক সময় পুরো উপজেলা সাময়িকভাবে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন করা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়। সাময়িক এ অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করেছে।





