
গাড়িতে জিপিএস লাগাতে আরও সময় চান পরিবহন মালিকরা
রফিকুল ইসলাম সবুজ
যশোর: যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারের পক্ষ থেকে যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানে জিপিএস ট্র্যাকার স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে এলেও এখনো সিংহভাগ পরিবহনে এই ডিভাইস লাগানো হয়নি। এ অবস্থায় সময় বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন পরিবহন মালিকরা।
সড়ক দুর্ঘটনা কমানো, চুরি-ছিনতাই রোধ এবং গাড়ির রুট নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে গত বছর বিআরটিএ’র পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। ওই সময়ের মধ্যে সব বাণিজ্যিক যানবাহনে জিপিএস ডিভাইস স্থাপন করার কথা ছিল। কিন্তু পরিবহন মালিকদের অভিযোগ, স্বল্প সময় এবং ডিভাইসের উচ্চমূল্যের কারণে তারা সব গাড়িতে একসাথে জিপিএস লাগাতে পারেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পরিবহন মালিক বলেন, “একটা জিপিএস ডিভাইস কিনতে ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা লাগে। আবার ফিটিং খরচও আছে। আমাদের শত শত গাড়ি। এত অল্প সময়ে সব গাড়িতে লাগানো সম্ভব না। সরকার যদি আরও ৩ থেকে ৬ মাস সময় দেয় তাহলে আমরা সব গাড়িতে লাগাতে পারব।”
তবে যাত্রী ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া উচিত না। তারা বলেন, জিপিএস থাকলে গাড়ি কোথায় আছে সেটা ট্র্যাক করা যায়। ফলে চালকরা বেপরোয়া গতি কমাবে, রুটের অনিয়ম বন্ধ হবে এবং কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে বিআরটিএ যশোরের এক কর্মকর্তা জানান, “আমরা মালিকদের আবেদন পেয়েছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে আইন সবার জন্য সমান। দ্রুত এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে হবে।”
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিপিএস শুধু ট্র্যাকিং ডিভাইস না, এটা একটা নিরাপত্তা ঢাল। সময় বাড়ানোর নামে যাতে আবার বছর পার হয়ে না যায় সেদিকে সরকারকে কঠোর নজর দিতে হবে।
এদিকে সময় বাড়ানো হবে কিনা সে বিষয়ে এখনো সরকারিভাবে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে।





