
৪ আগস্টের সেই কালরাত: সন্তানদের মাথায় হাত রেখে রাজপথে নেমেছিলেন ইএম মেহেদী হাসান।
এইচ এম জাকির হুসাইন
জেলা প্রতিনিধি নরসিংদী
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক উত্তাল সময়।
সেই রাতের স্মৃতি মনে পড়লে আজও গা শিউরে ওঠে ইএম মেহেদী হাসানের।
সামনে তখন অনিশ্চিত এক সকাল।
মনে একটাই প্রশ্ন—সকাল হলে কী হবে?
স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথের আন্দোলন কি সফল হবে?
নাকি আন্দোলনকারীদের ওপর নেমে আসবে আরও ভয়াবহ দমন-পীড়ন?
এই শঙ্কার মধ্যেই রাত কাটাচ্ছিলেন তিনি।
তবে ভয়কে জয় করে মনকে শক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন মেহেদী হাসান।
তিনি ভাবছিলেন,
দেশের জন্য যদি মৃত্যুকেও বরণ করে নিতে হয়,
তাহলেও তিনি নিজেকে গর্বিত মনে করবেন।
দেশের মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য
প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করার মানসিক প্রস্তুতি নিয়েই
সারারাত কেটে যায় তাঁর।
কখন যে রাত পেরিয়ে ভোর হয়ে গেছে,
তা তিনি টেরই পাননি।
ভোরের আলো ফুটতেই
রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন তিনি।
বাসার সবাই তখন গভীর ঘুমে।
নিজেও ছিলেন এক কঠিন মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে।
রাজপথে গেলে কী হবে,
ফিরে আসতে পারবেন কি না—
কোনো কিছুরই নিশ্চয়তা ছিল না।
বের হওয়ার সময় হঠাৎ চোখ পড়ে ঘুমন্ত সন্তানদের দিকে।
সন্তানদের নিষ্পাপ মুখ দেখে
এক মুহূর্তের জন্য থমকে যান তিনি।
এরপর সন্তানদের মাথায় হাত রেখে
আবেগঘন কণ্ঠে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।
তিনি বলেন,
“হে আল্লাহ, আমার যদি কিছু হয়ে যায়,
তুমি আমার সন্তানদের দেখে রেখো।”
এই দোয়া করে
আল্লাহর নাম নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েন তিনি।
মনের ভেতর তখন একটাই প্রত্যয়—
দেশের জন্য প্রয়োজনে জীবন দিতে হলেও
পিছপা হবেন না।
রাজপথের আন্দোলনে
অসংখ্য মানুষের সঙ্গে তিনিও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর
৫ আগস্ট আসে সেই বহুল প্রতীক্ষিত পরিবর্তন।
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান।
আন্দোলনকারীদের মধ্যে তৈরি হয়
নতুন এক আশার অনুভূতি।
ইএম মেহেদী হাসানের ভাষায়,
আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেছেন।
তিনি মনে করেন,
সেদিনের আন্দোলন ছিল দেশের মানুষের
অধিকার প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক সংগ্রাম।
সেই স্মৃতি আজও তাঁকে আবেগাপ্লুত করে।
ইএম মেহেদী হাসান বর্তমানে
আমদিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য
ড. আ মঈন খানের আস্থাভাজন নেতা হিসেবে
স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত।
দলের নেতাকর্মীদের কাছে
তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভূমিকা
ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়টি
বিশেষভাবে আলোচিত।
৪ আগস্টের সেই রাত তাঁর কাছে
শুধু একটি রাত নয়—
এটি তাঁর জীবনের এক স্মরণীয় অধ্যায়।
সন্তানদের মাথায় হাত রেখে
আল্লাহর কাছে করা সেই দোয়া
আজও তাঁর হৃদয়ে অমলিন।
ভয়, শঙ্কা ও অনিশ্চয়তাকে পেছনে ফেলে
সেদিন যে প্রত্যয় নিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন,
সেই স্মৃতি আজও তাঁকে নাড়া দেয়।
মেহেদী হাসানের ভাষায়,
“দেশের জন্য যদি মৃত্যুকে বরণ করতে হয়,
তাহলে সেই মৃত্যু হবে গর্বের।”
৪ আগস্টের কালরাত থেকে
৫ আগস্টের পরিবর্তন—
এই সময়টুকু তাঁর জীবনে
এক অনন্য রাজনৈতিক স্মৃতি হয়ে রয়েছে।
সেই স্মৃতিকে সঙ্গে নিয়েই
আগামীর বাংলাদেশে গণতন্ত্র,
মানুষের অধিকার ও দেশের কল্যাণে
কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন
ইএম মেহেদী হাসান।





