
নানান অভিযোগে জড়িয়ে পড়ছেন জবির সুমন সরদার
ইমতি, জবি প্রতিনিধি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা সুমন সরদারের বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসছে। কখনো সাংবাদিক সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ, কখনো রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কমিটি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা, আবার কখনো সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় তাঁর নাম উঠে আসছে। এসব ঘটনায় ক্যাম্পাসে প্রশ্ন উঠেছে “সুমন সরদারকে থামাবে কে”?
এর আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ এবং সংগঠনটির নেতৃত্ব নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে সুমন সরদারের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে সংগঠনের সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে একটি আলাদা কমিটি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এমনকি অননুমোদিত স্বাক্ষর ব্যবহার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক প্রভাব প্রয়োগের অভিযোগও সামনে আসে।
অডিও রেকর্ড অনুযায়ী ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আতাউল্লাহ আহাদকে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর চেষ্টাও করা হচ্ছে , যদিও তিনি আগে রিপোর্টার্স ইউনিটির নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য এইভাবে সাংবাদিক সংগঠনের নেতা হতে চাওয়ার নজির বাংলাদেশ নেই ।
এই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক ও দৈনিক আজকালের খবর-এর ক্যাম্পাস প্রতিনিধি কামরুজ্জামান কায়েসের ওপর হামলার ঘটনায়ও সুমন সরদারের নাম আসে।
কায়েসের অভিযোগ, সংবাদ সংগ্রহের সময় সুমন সরদার তাঁকে ডেকে নিয়ে যান এবং পরে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী তাঁকে মারধর করেন। তাঁর মোবাইল ফোন ও পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। ঘটনার ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ থাকার দাবিও করেছেন তিনি।
একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অল্প সময়ের ব্যবধানে সাংবাদিক সংগঠনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং সাংবাদিকের ওপর হামলার মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠায় ক্যাম্পাসে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এত কিছুর পর ও দৃশ্যমান কোনো কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
তাঁদের প্রশ্ন—একজন পদধারী ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে বারবার গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও যদি কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে কি এই নীরবতা তাঁকে আরও বেপরোয়া হতে উৎসাহিত করছে?
সাংবাদিকদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, কোনো নেতারই স্বাধীন সাংবাদিক সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বা সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
এদিকে, অতীতে সুমন সরদারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নিয়েছিল। ২০২৫ সালের ২৮ মার্চ প্রকাশিত একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেখা যায়, চাঁদা তোলার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এক মাসের জন্য সাংগঠনিক পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর আগে একই বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ২২ মার্চ আজমেরী পরিবহনের কাউন্টারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনায়ও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।
এত অভিযোগের পরও সুমন সরদার লাগামছাড়া ও বেপরোয়া বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ছাত্রদল নেতা বলেন, “সুমন সরদার নিজস্ব গ্যাং গঠন করে ‘মব’, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজি করেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থান থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলেন। এতে আমাদের ছাত্রদলের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বিএনপি, তারেক রহমান এবং জিয়া পরিবারেরও বদনাম হচ্ছে। এত কিছুর পরও কেন্দ্রীয় ছাত্রদল কেন তাঁর বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে না, আমরা বুঝতে পারছি না। কে তাঁর পেছনে আছে, কত টাকা দিয়ে কাকে ম্যানেজ করছেন—সেটাও আমাদের বোধগম্য নয়। এতে আমরা ছাত্রদল করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছি। নতুন সদস্যরাও এসব দেখে হতাশ হয়ে সংগঠন ছেড়ে চলে যাচ্ছে। আমরা আশা করি, এবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদল, বিএনপি, তারেক রহমান এবং ছাত্রদলের সুনাম রক্ষার স্বার্থে তাঁকে আর ন্যূনতম সুযোগ দেবে না।”
এদিকে, অতীতে সুমন সরদারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নিয়েছিল। ২০২৫ সালের ২৮ মার্চ প্রকাশিত একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেখা যায়, চাঁদা তোলার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এক মাসের জন্য সাংগঠনিক পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর আগে একই বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ২২ মার্চ আজমেরী পরিবহনের কাউন্টারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনায়ও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। এত অভিযোগের পরও সুমন সরদার লাগামছাড়া ও বেপরোয়া বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ছাত্রদল নেতা বলেন, “সুমন সরদার নিজস্ব গ্যাং গঠন করে ‘মব’, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজি করেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থান থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলেন। এতে আমাদের ছাত্রদলের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বিএনপি, তারেক রহমান এবং জিয়া পরিবারেরও বদনাম হচ্ছে। এত কিছুর পরও কেন্দ্রীয় ছাত্রদল কেন তাঁর বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে না, আমরা বুঝতে পারছি না। কে তাঁর পেছনে আছে, কত টাকা দিয়ে কাকে ম্যানেজ করছেন—সেটাও আমাদের বোধগম্য নয়। এতে আমরা ছাত্রদল করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছি। নতুন সদস্যরাও এসব দেখে হতাশ হয়ে সংগঠন ছেড়ে চলে যাচ্ছে। আমরা আশা করি, এবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদল-;বিএনপি, তারেক রহমান এবং ছাত্রদলের সুনাম রক্ষার স্বার্থে তাঁকে আর ন্যূনতম সুযোগ দেবে না।”
উল্লেখ্য, সুমন সরদার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সুজন মোল্লার অনুসারী হিসেবে রাজনীতি করেন। ক্যাম্পাসে তাঁর গ্রুপ ‘বিদ্রোহী’ গ্রুপ হিসেবে পরিচিত।





