
যশোরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারীর তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ।
মোঃযায়েদ আলী জাহিদ
যশোর জেলা প্রতিনিধি।
যশোরের ঝিকরগাছায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬-এর সুপারভাইজার ও তথ্যসংগ্রহকারী পদে নিয়োগ ঘিরে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, পরীক্ষার নামে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে রাজনৈতিক প্রভাব ও পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে। এমনকি ভাইভায় অংশ না নিয়েও একজন প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত তালিকায় উঠে আসার ঘটনাও ঘটেছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলামের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে নিয়োগের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ফলাফল প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন নিয়োগপ্রত্যাশীরা। তাদের অভিযোগ, প্রকৃত মেধাবীদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে।
ফলাফল প্রকাশের পর পানিসারা ইউনিয়নের মনিরুল ইসলামের নাম নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। নিয়োগপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, তথ্যসংগ্রহকারী পদে তিনি ভাইভাতেই অংশ নেননি। অথচ প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় তার নাম পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার ফলাফল বাতিল করে সংশোধনী বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।
সংশোধনী বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনাটিকে ‘তথ্যগত ত্রুটি’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও নিয়োগপ্রত্যাশীদের একাংশ তা মানতে নারাজ। তাদের প্রশ্ন—ভাইভায় অংশ না নেওয়া একজন প্রার্থীর নাম কীভাবে চূড়ান্ত তালিকায় আসে? এটি যদি শুধু তথ্যগত ভুল হয়, তাহলে এমন ভুলের পেছনে দায় কার?
নিয়োগপ্রত্যাশী রিকন আহমেদ বলেন, ভাইভায় অংশ না নিয়েও একজনের নাম চূড়ান্ত তালিকায় আসা নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। তার দাবি, শুধু একজন নয়, আরও কয়েকজন প্রার্থী পরীক্ষা বা ভাইভায় অংশ না নিয়েও তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে একাধিক নিয়োগপ্রত্যার্থী অভিযোগ করেন, তারা ভালো প্রস্তুতি নিয়েও অপেক্ষমান তালিকায় রয়েছেন। অথচ পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া বা তুলনামূলক কম যোগ্য প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। কেউ কেউ সরাসরি নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ‘নাটক’ ও ‘আগেই নির্ধারিত ফলাফল’ বলেও মন্তব্য করেন।
এর আগে নিয়োগে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন ঝিকরগাছা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম। ফলাফল প্রকাশের আগেই তিনি ফ্যামিলি কার্ডের তথ্যসংগ্রহকারী নিয়োগে একজনকে আগাম নির্বাচিত করার অভিযোগের কথা উল্লেখ করেন।
এদিকে গদখালী ইউনিয়নের অপেক্ষমান তালিকায় থাকা দুই প্রার্থীর রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নিয়োগপ্রত্যাশীরা। তাদের দাবি, তালিকার ৯ নম্বরে থাকা জনি হোসেন ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিনের পোলিং এজেন্ট ছিলেন। আর ১০ নম্বরে থাকা আশরাফুল ইসলাম গদখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব বা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে প্রশাসন।





