
রামপালে শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ ও স্কুল ড্রপআউটমুক্ত উপজেলা গঠনে সাংবাদিকদের অঙ্গীকার
অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা শেষে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর
আরিফ হাসান গজনবী, রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ ও বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া (ড্রপআউট) রোধ করে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলাকে শিশুবান্ধব উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাংবাদিকদের সঙ্গে অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভা শেষে শিশু সুরক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিশুশ্রম নির্মূল এবং ঝরে পড়া শিশুদের শিক্ষায় ফিরিয়ে আনতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
সোমবার (১০ আগস্ট) রামপাল উপজেলা মডেল মসজিদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের রামপাল এপি ও রামপাল এপিসিওর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে শিশু সুরক্ষার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা ও চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ তামান্না ফেরদৌসি। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহিনুর রহমান। সভায় সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের রামপাল এরিয়া প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেশন অফিসের সিনিয়র ম্যানেজার ফুলি সরকার। তামান্না ফেরদৌসি বর্তমানে রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন—উপজেলা প্রশাসনের সরকারি কর্মকর্তাদের তালিকাতেও তার নাম ও পদবি নিশ্চিত করা হয়েছে। �
Rampal Bagerhat +1
সভায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের রামপাল এপির সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার নাথন চৌকিদার, প্রোগ্রাম অফিসার সুবাস জয়ধর, পার্থ সারথি দেব ও ইশিতা বৈরাগীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের অংশগ্রহণ
সভায় রামপাল প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকরা অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন রামপাল প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক মো. শাহাজালাল গাজী, সদস্য সচিব মো. আরিফ গজনবী, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাগর আহমেদ এবং সদস্য জিল্লু রহমান, মো. আবদুল্লাহ, রবিউল ইসলাম, মাসুম বিল্লাহ, রাকিবুল ইসলাম সুমন, ইমরান হোসেন শান্ত, আকাশসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
সভায় শিশুশ্রম প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ বন্ধ, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিশুদের শনাক্ত করে পুনরায় শিক্ষার আওতায় আনা এবং শিশুদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।
বক্তারা বলেন, কোনো একটি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার একক প্রচেষ্টায় শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ ও স্কুল ড্রপআউট পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এ জন্য পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম, উন্নয়ন সংস্থা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এর আগে রামপালে শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ ও স্কুলবহির্ভূত শিশুদের নিয়ে প্রশাসন ও ওয়ার্ল্ড ভিশনের উদ্যোগে বিভিন্ন পর্যায়ে অগ্রগতি পর্যালোচনা ও মতবিনিময় সভা হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে শিশুদের শিক্ষার আওতায় ফিরিয়ে আনা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। �
চ্যানেল এস | Channel S +1
অঙ্গীকারনামায় সাংবাদিকদের স্বাক্ষর
সভা শেষে উপস্থিত সাংবাদিকরা শিশু সুরক্ষায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে একটি ‘ব্যক্তিগত অঙ্গীকারনামা’তে স্বাক্ষর করেন।
অঙ্গীকারনামায় বলা হয়—কোনো শিশু যেন শিশুশ্রমের শিকার না হয়, সে বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমে নিয়মিত প্রচার চালানো হবে। বাল্যবিবাহের তথ্য পাওয়া গেলে তা প্রতিরোধে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করা হবে। বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিশুদের পুনরায় শিক্ষার আওতায় ফিরিয়ে আনতে সচেতনতামূলক সংবাদ ও প্রচারণা চালানো হবে।
একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে শিশুদের পরিচয়, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার করেন সাংবাদিকরা।
সাংবাদিকরা বলেন, “কোনো শিশু শিশুশ্রমে নয়, কোনো শিশুর বাল্যবিবাহ নয় এবং কোনো শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে নয়—শিশুর অধিকার ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আমরা আমাদের কলম, কণ্ঠ ও গণমাধ্যমের শক্তিকে দায়িত্বশীলভাবে কাজে লাগাব।”
শুধু অঙ্গীকার নয়, বাস্তবায়নই লক্ষ্য
সভায় বক্তারা বলেন, অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং শিশু সুরক্ষায় মাঠপর্যায়ে আরও দায়িত্বশীল ও কার্যকর সাংবাদিকতার প্রত্যয়। শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ কিংবা শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়ার মতো ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি সমস্যার কারণ, ভুক্তভোগী শিশুর নিরাপত্তা এবং সমাধানের পথও গণমাধ্যমে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর পাশাপাশি গণমাধ্যমের সক্রিয় ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে সভার সমাপ্তি হয়।





