
সদরপুর উপজেলা কৃষি অফিসে ৪১ পদের বিপরীতে কর্মরত ১৭ জন, জনবল সংকটে ব্যাহত কৃষি সম্প্রসারণ সেবা
মামুন মিঞা
ফরিদপুর প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট চলছে। অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী ৪১টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৭ জন। ফলে কৃষকদের দোরগোড়ায় কৃষি সম্প্রসারণ সেবা পৌঁছে দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। জনবল সংকটের কারণে সদরপুরের বিপুলসংখ্যক কৃষক কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সদরপুর উপজেলা কৃষি অফিসে বিসিএস কৃষি ক্যাডারের উপজেলা কৃষি অফিসারের একটি পদ অনুমোদিত রয়েছে এবং ওই পদে কর্মকর্তা কর্মরত আছেন। অতিরিক্ত কৃষি অফিসারের অনুমোদিত এক থাকলেও বর্তমানে একজনই আছে । কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার অনুমোদিত দুইটি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন।
দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তাদের মধ্যেও রয়েছে ব্যাপক শূন্যতা। সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার পদে কেউ কর্মরত নেই। উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তার অনুমোদিত ১টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১ জন। একইভাবে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার অনুমোদিত ২৭টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১১ জন।
অর্থাৎ কৃষকদের মাঠপর্যায়ে সরাসরি কৃষি পরামর্শ, রোগবালাই শনাক্তকরণ, ফসল উৎপাদন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং কৃষি সংক্রান্ত বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার ২৭টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ১৬টিই বর্তমানে শূন্য।
এদিকে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও রয়েছে জনবল সংকট। স্প্রেয়ার মেকানিকের পদে কেউ নেই। অফিস সহায়ক, নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদে একজন করে কর্মরত রয়েছেন। অফিসের হিসাব ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পদেও জনবল সংকট রয়েছে বলে জানা গেছে।
কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের বড় একটি অংশ নির্ভর করে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের ওপর। একজন কর্মকর্তাকে একাধিক ব্লকের দায়িত্ব পালন করতে হলে নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন, কৃষকের সমস্যা চিহ্নিত করা, রোগবালাই ও পোকামাকড়ের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া এবং সরকারি কৃষি প্রণোদনা ও বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা কম থাকায় প্রয়োজনের সময় মাঠপর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ফসলের রোগবালাই, পোকামাকড়ের আক্রমণ কিংবা কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক পরামর্শের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
সদরপুর উপজেলার কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে বিপুলসংখ্যক কৃষক সরাসরি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ফলে কৃষি বিভাগের অনুমোদিত পদগুলোতে দ্রুত জনবল নিয়োগ ও পদায়ন করা না হলে কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রম আরও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষকদের প্রত্যাশা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সদরপুর উপজেলা কৃষি অফিসের জনবল সংকটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত শূন্য পদগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারী পদায়নের উদ্যোগ নেবে। এতে মাঠপর্যায়ে কৃষি সেবা আরও কার্যকর হবে এবং কৃষকরাও সময়মতো সরকারি কৃষি পরামর্শ ও সহায়তা পাবেন।





