
যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ, নিখোঁজের দাবি বাবার
রফিকুল ইসলাম রফিক বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার পর থেকে তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না—এমন অভিযোগ করেছেন মোছা. ফরিদা আক্তারের বাবা মো. ফয়জল ইসলাম। এ ঘটনায় তিনি বীরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে মো. রনি ইসলাম (৩০), তার বাবা মো. রমজান আলী (৫৫) ও মা মোছা. তহুরা খাতুন (৫০)-কে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে ফয়জল ইসলামের মেয়ে ফরিদা আক্তারের সঙ্গে রনি ইসলামের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুক হিসেবে এক লাখ টাকা দাবিতে ফরিদার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২২ জুলাই দুপুরে সংসারের কাজ করার সময় যৌতুকের এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। ফরিদা টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে রনি ইসলাম বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করে আহত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাকে আহত অবস্থায় বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে ফয়জল ইসলাম মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে গেলে তার মেয়ের কোনো সন্ধান না দিয়ে তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর থেকে ফরিদাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেছেন তার বাবা।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে গিয়ে অভিযুক্ত রনি ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি ফরিদাকে মারধরের বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে যৌতুক দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। তার দাবি, পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরেই ওই ঘটনা ঘটেছে।
ফরিদা বর্তমানে কোথায় রয়েছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তার বাবা ফয়জল ইসলাম।
অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।





