
শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে নজরুলচর্চার বিকল্প নেই: জেলা প্রশাসক
কুড়িগ্রামে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়ে মতবিনিময়
মোঃ জাফর আহমেদ, কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা | ২০ আগস্ট ২০২৬
শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক চেতনা বিকাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যচর্চার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। তিনি বলেছেন, নজরুলের সাহিত্য ও জীবনদর্শন নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের আয়োজন করা প্রয়োজন।
নজরুল বর্ষ উপলক্ষে জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ।
সভায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও জীবনদর্শন চর্চা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। জেলা প্রশাসক বলেন, “শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও সাংস্কৃতিক চেতনায় সমৃদ্ধ করতে কবি নজরুলের সাহিত্যচর্চার বিকল্প নেই।” নজরুল বর্ষের আয়োজন জেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখরভাবে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সভায় বক্তারা বলেন, নজরুলের সাহিত্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিকতা, সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের চেতনা জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণে শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বছরজুড়ে নজরুলচর্চার পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।
এ সময় জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আবৃত্তি, সংগীত, নাটক, রচনা ও নজরুলচর্চা বিষয়ক প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। উপজেলা পর্যায়েও এসব কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে মতামত দেন অংশগ্রহণকারীরা।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ নাজির হোসেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তফাফিজার রহমান মোস্তফা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু ও যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব।
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশ নেন কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি সফি খান, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান খন্দকার, সাংবাদিক আশরাফুল হক রুবেল ও সাইয়েদ আহমেদ বাবু। এ ছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সভায় তাঁদের মতামত ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, নজরুলের সাহিত্য ও দর্শনকে শিক্ষার্থীদের কাছে সহজ ও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরতে পারলে তাঁদের সৃজনশীলতা বিকাশের পাশাপাশি মানবিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধও আরও শক্তিশালী হবে।





