
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মকাহিনী
রামকৃষ্ণ সাহা রামা
টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ আবির্ভাব সনাতন ধর্মের ইতিহাসে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্যের জয়লাভের এক পরম পবিত্র ঘটনা।
দ্বাপর যুগের কথা। রাজা কংসের অত্যাচারে তখন পৃথিবী কেঁপে উঠছিল। মানুষের ওপর চলছিল চরম অন্যায় আর অত্যাচার। কংসের বোন দেবকীর বিয়ের দিন হঠাৎ আকাশ থেকে এক দৈববাণীতে শোনা গেল যে, দেবকীর অষ্টম সন্তানই পাপী কংসকে বধ করবে।
দৈববাণী শুনে কংস ভয়ে শিউরে উঠলো। সে তখনই বোন দেবকী আর ভগ্নিপতি বসুদেবকে বন্দি করে কারাগারে আটকে রাখলো। এরপর দেবকীর গর্ভে যে সন্তানই জন্ম নিতো, কংস নির্দয়ভাবে তাকে হত্যা করতো। এভাবে একে একে ছয়টি সন্তানকে সে মেরে ফেলে। তবে দেবকীর সপ্তম সন্তান বলরামকে অলৌকিকভাবে রক্ষা করে মা রোহিণীর গর্ভে স্থানান্তরিত করা হয়।
অবশেষে এলো সেই পরম মুহূর্ত। ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে এক অন্ধকার রাতের ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে, কংসের অন্ধকার কারাগারে জন্ম নিলেন আমাদের প্রিয় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ।
ভগবান বিষ্ণুর নির্দেশে বসুদেব শিশুকৃষ্ণকে নিয়ে গোকুলের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। কৃষ্ণলীলায় কারাগারের দরজা খুলে গেল, শিকল খুলে গেল এবং প্রহরীরা গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ল।
প্রবল বৃষ্টি ও যমুনার উত্তাল স্রোতের মধ্যেও অনন্তশেষ তাঁর ফণা বিস্তার করে শিশুকৃষ্ণকে রক্ষা করলেন। ভগবানের কৃপায় যমুনা পথ করে দিল। বসুদেব গোকুলে যশোদার সদ্যোজাত কন্যাশিশুর সঙ্গে কৃষ্ণকে বদল করে কারাগারে ফিরে এলেন।
পরদিন কংস যখন সেই কন্যাসন্তানকে মারতে গেলো, তখন সেই শিশু মহাশূন্যে ভেসে উঠে দেবী যোগমায়ার রূপে বলে উঠলেন—
“কংস! তোমারে বধিবে যে, গোকুলে বাড়িছে সে!”
কংস গোকুলের সব শিশুকে মারার জন্য পাঠালো পুতনা নামের এক রাক্ষসীকে। কিন্তু মাত্র ছয় মাস বয়সেই পুতনার বিষাক্ত স্তন্যপান করে তার প্রাণনাশ করলেন ছোট্ট কৃষ্ণ! এরপর শকটাসুর, তৃণাবর্ত, বকাসুর ও অঘাসুরসহ বহু অসুরকে তিনি বিনাশ করে গোকুলবাসীকে রক্ষা করেন।
পরে কালীয় নাগ দমন, গোবর্ধন পর্বত ধারণ এবং অত্যাচারী কংস বধের মাধ্যমে তিনি ধর্ম ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেন।একে একে কালীয় নাগ দমন থেকে শুরু করে অত্যাচারী কংসকে বধ করে কৃষ্ণ পুরো বিশ্বকে অন্যায়ের হাত থেকে রক্ষা করলেন।
এভাবে যখনই পৃথিবীতে অধর্ম ও অন্যায় বেড়ে যায়, তখনই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন এবং ধর্ম রক্ষার জন্য যুগে যুগে অবতীর্ণ হন। তাই শ্রীকৃষ্ণের আদর্শে আমাদের উচিত সব সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং সত্যের পথে চলা।





