
এমপি সেলিম ভূঁইয়ার সঙ্গে অধ্যক্ষ জহুরুল ইসলামের সাক্ষাৎ, শুভেচ্ছার পাশাপাশি এমপিওভুক্তির আবেদন
গাইবান্ধা থেকে মোঃ আবু জাফর মন্ডল:
কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য, কুমিল্লা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ শিক্ষক ঐক্য জোটের সভাপতি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া এমপি নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের সভাপতি ও ৭ নম্বর পবনাপুর ইউনিয়নের একমাত্র নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পবনাপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ এসএম জহুরুল ইসলাম।
সম্প্রতি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া এমপির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে অধ্যক্ষ এসএম জহুরুল ইসলাম পবনাপুর মহিলা কলেজের পক্ষ থেকে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং কলেজটির দীর্ঘদিনের এমপিওভুক্তির দাবি তুলে ধরে মৌখিকভাবে আবেদন করেন। এ সময় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া কলেজটির এমপিওভুক্তির বিষয়ে আশ্বস্ত করেন বলে জানা গেছে।
পবনাপুর মহিলা কলেজটি দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যন্ত এলাকার নারী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সীমিত সুযোগ-সুবিধা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষক-কর্মচারীরা শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রেখেছেন। তবে দীর্ঘদিনেও প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবনে নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা।
কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে অর্ধশতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের জীবন-জীবিকা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। ফলে এমপিওভুক্তি এখন শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের দাবি নয়—এটি অর্ধশতাধিক পরিবারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার একটি মানবিক প্রত্যাশা।
কলেজটির এমপিওভুক্তির জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ করে আসছেন অধ্যক্ষ এসএম জহুরুল ইসলাম। তিনি সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তি, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রতিষ্ঠানটির বাস্তব অবস্থা তুলে ধরছেন এবং এমপিওভুক্তির জন্য সহযোগিতা কামনা করছেন।
অধ্যক্ষ এসএম জহুরুল ইসলাম জানান, গাইবান্ধার প্রতিবেশী উপজেলা আসনের সংসদ সদস্য ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ শামীম কায়ছার লিংকনসহ জেলার বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যদের কাছেও তিনি পবনাপুর মহিলা কলেজের এমপিওভুক্তির বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাঁদের সহযোগিতা ও সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, “পবনাপুর মহিলা কলেজ শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি এ এলাকার নারী শিক্ষার অন্যতম আশ্রয়স্থল। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক-কর্মচারীরা অনেক কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করে প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রেখেছেন। তাঁদের পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ এখন এমপিওভুক্তির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।”
অধ্যক্ষ আরও বলেন, “আমি বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সুদৃষ্টি কামনা করছি। প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সদয় দৃষ্টি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপে পবনাপুর মহিলা কলেজ এমপিওভুক্ত হলে দীর্ঘদিনের একটি যৌক্তিক দাবি পূরণ হবে। পাশাপাশি অর্ধশতাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর পরিবারে ফিরবে আর্থিক নিরাপত্তা ও স্বস্তি।”
স্থানীয়দের মতে, পবনাপুর মহিলা কলেজ এমপিওভুক্ত হলে শুধু শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তাই নিশ্চিত হবে না, বরং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে। তাই নারী শিক্ষা বিস্তারের স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটির এমপিওভুক্তির বিষয়টি দ্রুত বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এখন পবনাপুর মহিলা কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একটাই প্রত্যাশা—সরকারের নীতিনির্ধারকদের সদয় দৃষ্টি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যকর হস্তক্ষেপে দীর্ঘদিনের এই প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ নেবে।





