
যশোরে সরকারি বাসা দখল করে ৫.৮৫ লাখ টাকার ভাড়া বকেয়া :নীরব প্রশাসন রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
বিশেষ প্রতিনিধি :
রফিকুল ইসলাম
চৌগাছা যশোর
সরকারি বাসা ব্যবহার করলেও মাস শেষে ভাড়া পরিশোধের বালাই নেই। বছরের পর বছর বকেয়া টাকা না দিয়ে বহাল তবিয়তে দিন কাটাচ্ছেন যশোরের চৌগাছা উপজেলার ২৬ কর্মকর্তা ও কর্মচারী। দীর্ঘদিনের এই নিয়মহীনতায় একদিকে ওই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাঁধে ভারী হচ্ছে ঋণের বোঝা, অন্যদিকে রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। তবে এসবের তদারকিতে নেই কোনো কার্যকর উদ্যোগ।
১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত চৌগাছা উপজেলায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে চেয়ারম্যানের বাংলোসহ দুটি বাংলো, ৬টি ভবনে ২৪টি ফ্ল্যাট এবং ১টি ডরমিটরি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে গেজেটেড ও নন-গেজেটেড কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি দপ্তর পরিচালিত হচ্ছে এসব ভবনে। ডরমিটরিতে বসবাস করছেন প্রায় ১৪ থেকে ১৬ জন কর্মী।
তবে সরকারি এসব বাসস্থানে দীর্ঘদিন বসবাস করলেও ভাড়া পরিশোধ করছেন না অনেকেই। বকেয়ার তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সামসুন নাহার। বিগত ৩ বছর ধরে সরকারি বাসায় বসবাস করলেও তিনি কোনো ভাড়া দেননি। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা হারে তার একক বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার টাকায়।
এ ছাড়া বকেয়া ভাড়াটিয়াদের মধ্যে রয়েছেন:
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মুস্তাফিজুর রহমান ১৭ মাসের বকেয়া ৫১ হাজার টাকা।
উপজেলা দারিদ্র্য বিমোচন অফিস ১৭ মাসের বকেয়া ৫১ হাজার টাকা।
উপজেলা রিসোর্স সেন্টার ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১৭ মাসের বকেয়া ৫১ হাজার টাকা।
পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ম্যানেজার ওবাইদুল ইসলাম ১৪ মাসের বকেয়া ৪২ হাজার টাকা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের গাড়ি চালক সোহেল রানা ১২ মাসের বকেয়া ৩৬ হাজার টাকা।
লাইসিয়াম স্কুলের শিক্ষক ও উপজেলা মসজিদের ইমাম শাহজাহান আলী ১২ মাসের বকেয়া ৩৬ হাজার টাকা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের হিসাব সহকারী শরিফুল ইসলাম ৬ মাসের বকেয়া ১৮ হাজার টাকা।
পিআইও অফিসের সহকারী আব্দুর জব্বার ৩ মাসের বকেয়া ৯ হাজার টাকা।
উপজেলা তথ্য অফিস ২৫ মাসের বকেয়া ৭৫ হাজার টাকা।
উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিস ৩ মাসের বকেয়া ৯ হাজার টাকা।
ডরমোটরির স্টাফরা প্রায় ১৪ জন স্টাফের কাছ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত মাসে ৫০০ টাকা হারে বকেয়া পড়েছে প্রায় ৭২ হাজার টাকা।
এমনকি উপজেলা চেয়ারম্যানের বাংলোতে বরাদ্দ ছাড়াই বিনা ভাড়ায় বসবাস করছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি)। সব মিলিয়ে এই উপজেলায় সরকারি বাসা ভাড়া বকেয়ার অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকায়।
বকেয়া টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে পিআইও শামসুন্নাহার দাবি করেন,আমার কোন বকেয়া নেই, সব ভাড়া পরিশোধ করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ থাকলে জানাতে পারেন।
এ বিষয়ে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ইউনুস আলী জানান,এ সংক্রান্ত কোনো চিঠি আমাদের কাছে আসেনি। বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই,সম্পূর্ণ বিষয় টি ইউএনও স্যার বলতে পারবেন।
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা প্রকৌশলী আলমগীর হোসেনের ফোনে কল করা হলে তিনি ব্যস্ততার অজুহাতে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং পরবর্তীতে আর কল রিসিভ করেননি। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলামের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন না ধরায় বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদারকি বাড়িয়ে সরকারি রাজস্ব উদ্ধার এবং আবাসন বিধিমালা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা জরুরি।





