
পলাশবাড়ীতে ৩০ কিলোমিটার সড়কে গাছ লাগানোর উদ্যোগ, সংরক্ষণ নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন
গাইবান্ধা থেকে মোঃ আবু জাফর মন্ডলঃ
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও বাঁধের পাশে প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকায় তাল, খেজুর, আম, জাম, কাঁঠালসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছিলেন মরহুম আব্দুল হাকিম মন্ডল ধলু স্যার। তবে দীর্ঘদিন পর তার লাগানো এসব গাছের কতটুকু এখনো টিকে আছে, সেগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণ হচ্ছে কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে উপজেলার ২ নম্বর হোসেনপুর ইউনিয়নের চেরেঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা ও মেরীরহাট ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক আব্দুল হাকিম মন্ডল বিভিন্ন সড়কের দুই পাশে বৃক্ষরোপণ শুরু করেন। শালমারা ও ছোট শালমারা এলাকা থেকে শুরু করে করতোয়া বাঁধ, করতোয়া পাড়া, মেরীরহাট বাজার, লক্ষ্মীপুর, সাইনদহ, কুরসিয়াপাড়া, টুকনিপাড়া, চেরেঙ্গা, খাসবাড়ি, কদমতলী, রামকৃষ্ণপুর, আকবরনগর ও দর্জিপাড়া এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয় বলে জানা যায়।
তার এই বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৮৮ সালে ব্র্যাকের পক্ষ থেকে তাকে ‘সাদা মনের মানুষ’ হিসেবে সনদ দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলো রক্ষা ও নিয়মিত পরিচর্যার বিষয়টি এখন নতুন করে সামনে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের দুই পাশে লাগানো অনেক গাছ বিভিন্ন সময়ে কেটে ফেলা হয়েছে। কিছু গাছ রাতের আঁধারে কেটে নিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন আগে যে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু হয়েছিল, তার পুরো সুফল পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আব্দুল হাকিম মন্ডল ২০২২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি মারা যান। তার মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যরা নিজেদের উদ্যোগে গাছগুলোর পরিচর্যা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান তার ছোট ছেলে মো. মাসুম বিল্লাহ। তার ভাষ্য, তাদের কোনো ব্যক্তিগত প্রত্যাশা নেই; বরং তার বাবার বৃক্ষপ্রেমের কথা বিভিন্ন গণমাধ্যমে তুলে ধরা হলে মানুষ বৃক্ষরোপণ ও সংরক্ষণে আরও উৎসাহিত হবে।
সরেজমিনে চেরেঙ্গা গ্রামের বাড়িতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা দেখা গেছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, এসব চারা বড় হলে সড়কের পাশে রোপণ করা হবে। অর্থাৎ বৃক্ষরোপণের উদ্যোগটি এখনো পরিবারটির মধ্যে অব্যাহত রয়েছে।
তবে স্থানীয়দের মতে, শুধু ব্যক্তি উদ্যোগে গাছ লাগালেই পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়। সড়কের পাশে লাগানো গাছগুলো যাতে অবৈধভাবে কেটে ফেলা না হয়, সেজন্য স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত নজরদারি প্রয়োজন।
পরিবেশ সচেতন মহল বলছে, আব্দুল হাকিম মন্ডলের মতো একজন ব্যক্তির দীর্ঘদিনের বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অনুকরণীয়। কিন্তু তার উদ্যোগকে স্মরণীয় করে রাখতে হলে নতুন করে গাছ লাগানোর পাশাপাশি পুরোনো গাছগুলো রক্ষা করাও জরুরি। নইলে একসময় রাস্তার পাশে বৃক্ষরোপণের সেই স্মৃতিও হারিয়ে যেতে পারে।
তাদের মতে, বৃক্ষ নিধন বন্ধ করে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ ও সংরক্ষণে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ব্যক্তি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি তদারকি নিশ্চিত করা গেলে আব্দুল হাকিম মন্ডলের দীর্ঘদিনের বৃক্ষপ্রেমের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও কার্যকর দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।





