
১৯ বছরের তরুণের স্বপ্নে আঘাত! রাতের আঁধারে কেটে ফেলা হলো আঙুর বাগানের ১৫০ গাছ
মোঃ নুর আলম সিদ্দীক
জেলা প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও।
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় রাতের আঁধারে এক তরুণ উদ্যোক্তার স্বপ্নের আঙুর বাগানের ১০০ থেকে ১৫০টি গাছ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। উপজেলার ডাঙ্গী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাগানটির উদ্যোক্তা ১৯ বছর বয়সী রাহাত আলম বর্ষা। একদিকে স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার বেদনা, অন্যদিকে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি—সব মিলিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তরুণ এই উদ্যোক্তা।
জানা গেছে, মাত্র ১৯ বছর বয়সে নতুন কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে আঙুর চাষে উদ্যোগী হন রাহাত আলম বর্ষা। সদ্য এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এই তরুণ প্রায় ৫০ শতক জমিতে গড়ে তোলেন আঙুরের বাগান। ছয় মাস আগে শুরু করা বাগানটিতে ছিল আনুমানিক ৩০০টি আঙুরগাছ। বাগানটি গড়ে তুলতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন তিনি।
কিন্তু রাতের আঁধারে কে বা কারা বাগানের ১০০ থেকে ১৫০টি আঙুরগাছ কেটে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কেটে ফেলা কয়েকটি গাছে ইতোমধ্যে আঙুরও ধরেছিল। উদ্যোক্তার দাবি, এ ঘটনায় তাঁর প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, স্বপ্ন ও বিনিয়োগে গড়ে তোলা বাগানের এমন অবস্থা দেখে ভেঙে পড়েছেন তিনি। দ্রুত ঘটনার তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন রাহাত।
বাগানটি দেখতে এসে রাহাতের বন্ধু সোহাগ হাসান বলেন, প্রায় পাঁচ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে অনেক স্বপ্ন নিয়ে তাঁর বন্ধু বর্ষা বাগানটি গড়ে তুলেছিল। কিন্তু রাতের আঁধারে শতাধিক গাছ কেটে দেওয়ায় সে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি দ্রুত এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।
বাগান দেখতে আসা সম্ভু রায় সিংহ বলেন, তিনি প্রায়ই এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতেন এবং বাইরে থেকে বাগানটি দেখতেন। তবে কখনো ভেতরে প্রবেশ করেননি। গাছ কেটে ফেলার খবর পেয়ে বাগানের ভেতরে এসে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখে তিনি মর্মাহত হয়েছেন। তাঁর ধারণা, প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অন্যদিকে, মশিরুল ইসলাম জানান, আগে তিনি দীর্ঘদিন ওই জমিতে চাষাবাদ করতেন। পরবর্তীতে আঙুর বাগান করার পরিকল্পনা নেওয়া হলে তিনি রাহাত আলম বর্ষাকে জমিটি ছেড়ে দেন। তাঁর প্রত্যাশা ছিল, বালিয়াডাঙ্গীতে আঙুর চাষের এই উদ্যোগ সফল হলে এলাকার অন্য তরুণরাও উৎসাহিত হবেন এবং নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। কিন্তু বাগানের এমন ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থা দেখে তিনি অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছেন। দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।
এদিকে, স্থানীয়রা বলছেন, একজন তরুণ উদ্যোক্তার এমন সম্ভাবনাময় উদ্যোগ ধ্বংসের মুখে পড়া অত্যন্ত হতাশাজনক। প্রশাসনের কাছে তাঁদের দাবি, দ্রুত ঘটনার তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করতে হবে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত তরুণ উদ্যোক্তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তাঁরা।
মাত্র ১৯ বছর বয়সে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে আঙুর চাষে এগিয়ে এসেছিলেন রাহাত আলম বর্ষা। তাঁর এই উদ্যোগ সফল হলে বালিয়াডাঙ্গীর কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারত। কিন্তু রাতের আঁধারে বাগানের গাছ কেটে দেওয়ার অভিযোগে সেই স্বপ্ন এখন বড় অনিশ্চয়তার মুখে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কত দ্রুত ঘটনার তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনতে পারে।





