
দেড় বছর ধরে ঝুলে থাকা চাপড়াগঞ্জ-সরস্বতীতলা সড়ক, দুর্ভোগে কয়েক গ্রামের মানুষ
সাকিব আহসান
প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও
ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার চাপড়াগঞ্জ-সরস্বতীতলা সড়কের প্রায় ৮০০ মিটার অংশ দীর্ঘ দেড় বছর ধরে অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়ন কাজ শুরু হলেও তা শেষ না হওয়ায় কাস্তোর, বনুয়াপাড়া, উত্তর নওপাড়া, সাগুনী ও বিষ্ণুপুর গ্রামের হাজারো মানুষ প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বর্ষা মৌসুমে কাদামাটি আর শুকনো মৌসুমে ধুলাবালির কারণে সড়কটি এখন জনদুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পর সড়কটির উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর কেটে গেছে প্রায় দেড় বছর, অথচ সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখনও সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীদের চলাচল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।
কাস্তোর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, “রাস্তার কাজ শুরু হয়েছিল দেখে আমরা খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে কাজ শুরু করাটাই ছিল সবচেয়ে বড় সমস্যা। আগে যেমন ছিল, এখন তার চেয়েও খারাপ অবস্থায় আছে। বৃষ্টি হলে হাঁটাও যায় না, আবার শুকনো সময়ে ধুলার কারণে চোখ খোলা কঠিন হয়ে পড়ে।”
বনুয়াপাড়া এলাকার গৃহবধূ রহিমা বেগম বলেন, “বাজারে যেতে কিংবা সন্তানকে স্কুলে পৌঁছে দিতে অনেক কষ্ট হয়। অসুস্থ রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার সময় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়। একটি উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে মানুষ এতদিন ধরে কষ্ট পাবে, এটা মেনে নেওয়া কঠিন।”
উত্তর নওপাড়ার কৃষক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, কৃষিপণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “ধান, ভুট্টা বা সবজি বাজারে নিতে পরিবহন পাওয়া যায় না। গাড়িচালকেরা খারাপ রাস্তার কারণে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করেন। এতে কৃষকের লাভ কমে যাচ্ছে।”
সাগুনী গ্রামের কলেজছাত্রী শারমিন আক্তার বলেন, “প্রতিদিন কলেজে যেতে এই রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। বর্ষাকালে পোশাক-জুতা নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় যানবাহন না পেয়ে হেঁটেই যেতে হয়। উন্নয়নের নামে এমন দুর্ভোগ কাম্য নয়।”
বিষ্ণুপুর এলাকার ব্যবসায়ী রতন চন্দ্র বলেন, “এই সড়কটি কয়েকটি গ্রামের মানুষের প্রধান যোগাযোগ পথ। কাজ বন্ধ থাকায় স্থানীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত কাজ শেষ না হলে ক্ষোভ আরও বাড়বে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মূল লক্ষ্য মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করা। কিন্তু কাজ শুরু করে দীর্ঘ সময় ফেলে রাখার সংস্কৃতি জনভোগান্তিকে আরও বাড়িয়ে দেয়। এতে সরকারি অর্থের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তারা মনে করেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত না হলে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে।
এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সড়কটির অসমাপ্ত কাজ সম্পন্নের উদ্যোগ নিক। কারণ মাত্র ৮০০ মিটার রাস্তার কারণে পাঁচটি গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থী থেকে কৃষক, ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ পথচারী—সবাই এখন একটি প্রশ্নই করছেন: দেড় বছর ধরে ঝুলে থাকা এই সড়কের কাজ শেষ হবে কবে?
চাপড়াগঞ্জ-সরস্বতীতলা সড়কের এই দীর্ঘসূত্রতা শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্পের বিলম্ব নয়; এটি গ্রামীণ জনজীবনের বাস্তব সংকটের প্রতিচ্ছবি। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।





