
জনগণের দোরগোড়ায় জেলা প্রশাসন: ভূরুঙ্গামারীতে অন্নপূর্ণা দেবনাথের দিনব্যাপী মাঠপর্যায়ের তৎপরতা
মোঃ জাফর আহমদ কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতাঃ
প্রশাসন যখন শুধু দাপ্তরিক গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়, তখন সরকারি সেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হয়। সেই বার্তাই যেন দিলেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সেবা কার্যক্রম পরিদর্শন করে তিনি সরাসরি কথা বলেছেন সাধারণ মানুষ, শিক্ষক, অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে।
সফরকালে জেলা প্রশাসক উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ভূরুঙ্গামারী থানা, তিলাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিলাই ইউনিয়ন পরিষদ ও ডিজিটাল সেন্টার এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় সরকারি সেবার মান, মানুষের ভোগান্তি এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন তিনি।
তিলাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শিশুদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে আটকে রাখলে চলবে না। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে তাদের যুক্ত করতে হবে।
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, “শিশুদের শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। শিক্ষার পাশাপাশি সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করতে হবে। একটি সুস্থ ও মানসিকভাবে বিকশিত শিশু কখনোই পথ হারায় না। এ ক্ষেত্রে অভিভাবক ও শিক্ষকদের সমন্বিত ভূমিকা সবচেয়ে জরুরি।”
শিক্ষার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার বার্তাও ছড়িয়ে দেন জেলা প্রশাসক। স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে তালগাছের চারা রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করে তিনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এরপর তিলাই ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় মাদক, নারী ও শিশু নির্যাতন, যৌতুক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বৃহৎ জনসচেতনতামূলক সভা। সভায় সামাজিক এসব ব্যাধির বিরুদ্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
জেলা প্রশাসকের সরাসরি মাঠপর্যায়ে উপস্থিতি স্থানীয় মানুষের মধ্যেও তৈরি করেছে ইতিবাচক সাড়া। স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “জেলা প্রশাসক নিজে প্রত্যন্ত এলাকায় এসে বাল্যবিবাহ ও মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। এতে অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। সরকারি সেবা পেতে কোনো অনিয়ম হলে সরাসরি যোগাযোগের আশ্বাস আমাদের আস্থা বাড়িয়েছে।”
স্থানীয় অভিভাবকরাও বিদ্যালয়ে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তাঁদের মতে, শিশুদের ভবিষ্যৎ শুধু পরীক্ষার ফলাফলে নয়, একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার মধ্যেই নিহিত।
সচেতন মহলের মতে, জেলা প্রশাসকের এ ধরনের মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং সরকারি সেবাকে জনগণের আরও কাছে নেওয়ার একটি কার্যকর উদ্যোগ। দপ্তরের ফাইল ও সভাকক্ষের বাইরে গিয়ে বাস্তবতা দেখা, মানুষের কথা শোনা এবং সমস্যার জায়গাগুলো চিহ্নিত করার মাধ্যমে প্রশাসনের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব কমছে।
পরিদর্শনকালে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মাঠপর্যায়ে সরকারি সেবার গুণগত মান নিশ্চিত করা, জনগণের ভোগান্তি কমানো এবং স্থানীয় উন্নয়নকে আরও গতিশীল করতে এ ধরনের সরেজমিন পরিদর্শন ও জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।





