
রোগীদের খাবারের মান নিশ্চিতে কঠোর তদারকি, পুরোনো অনিয়মের ধারণা বদলাতে উদ্যোগ
মামুন মিঞা
ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি,
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন ৫০ জন বা তারও বেশি ভর্তি রোগীর জন্য সরকারি নির্ধারিত নিয়ম ও বরাদ্দ অনুযায়ী মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে রোগীদের বরাদ্দকৃত অর্থের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে খাবারের মান, পরিমাণ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের রোগীদের খাবার নিয়ে সমাজে নানা ধরনের অভিযোগ ও ধারণা প্রচলিত রয়েছে। রোগীদের জন্য সরকারের দেওয়া বরাদ্দের পুরো সুবিধা তারা পান কি না—এ নিয়েও অনেকের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রোগীদের বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে পুষ্টিকর খাবার রোগীদের প্লেটে পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ নতুন করে তদারকি জোরদার করেছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, খাবারের বাজার, পণ্যের গুণগত মান ও নির্ধারিত পরিমাণ নিশ্চিত করতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UHFPO)-এর নির্দেশনায় এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসার (RMO)-এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে একজন মেডিকেল অফিসারকে খাবারের মান ও বাজার তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাজার থেকে খাদ্যসামগ্রী কেনা, পরিমাণ ও গুণগত মান যাচাই, রান্না এবং রোগীদের মধ্যে পরিবেশন—প্রতিটি ধাপেই সরকারি নির্ধারিত মান ও পরিমাপ অনুসরণ করা হচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এমনকি রোগীদের পরিবেশনের আগে রান্না করা খাবারের স্বাদ, মান ও সিদ্ধের বিষয়টি সরাসরি পরীক্ষা করে দেখছেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার (RMO)। এর মাধ্যমে খাবারের মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোনো ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতির সুযোগ না রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিনের খাবারের বাজার ও রান্নার মান নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। সীমিত জনবল ও নানা বাস্তব সমস্যার কারণে সবসময় শতভাগ নিখুঁতভাবে কাজ করা সম্ভব নাও হতে পারে। তারপরও রোগীদের স্বার্থে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তারা।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি কোনো লোক দেখানো উদ্যোগ নয়। রোগীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও ভুল ধারণা দূর করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। এ কাজে রোগী ও স্বজনদেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, কোনো ত্রুটি বা অনিয়ম চোখে পড়লে ঢালাও সমালোচনার পরিবর্তে গঠনমূলকভাবে বিষয়টি জানালে তা দ্রুত সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে নিজেদের প্রতিষ্ঠান মনে করে রোগী ও স্বজনদের ইতিবাচক পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও রোগীদের সর্বোচ্চ মানসম্মত সেবা দেওয়াই তাদের প্রধান লক্ষ্য। রোগী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এই প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে।





