
শিক্ষক সংকট ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশের কারণে বিপর্যস্ত মনোহরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
গাইবান্ধা থেকে মোঃ আবু জাফর মন্ডলঃ
পলাশবাড়ীর মনোহর পুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৩ জনের স্থলে শিক্ষক মাত্র ৮ জন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষার মান ফেরানোর দাবি এলাকাবাসীর। বিবরনে জানা যায়,
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ৮ নম্বর মনোহরপুর ইউনিয়নের একমাত্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় জর্জরিত। শিক্ষক সংকট, শ্রেণিকক্ষের স্বল্পতা, প্রধান গেট ও সীমানাপ্রাচীরের অভাবসহ নানা সমস্যায় ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়টির স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম।
জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে বর্তমান প্রধান শিক্ষকে মোঃ শাহাদাৎ আলম সরকারের পরিবারের একান্ত প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এলাকার মেয়েদের শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘদিন বিদ্যালয়টির এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলও সন্তোষজনক ছিল। তবে বর্তমানে শিক্ষক সংকটসহ নানা কারণে শিক্ষার মান ও ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিদ্যালয়ে মোট ১৩ জন শিক্ষকের পাঠদানের কথা থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৮ জন শিক্ষক দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অনুপস্থিত পাঁচ শিক্ষকের মধ্যে বিএসসি শিক্ষক মো. ফারুক খলিল মিয়া একটি মামলায় দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন বলে জানা গেছে। অপর চারজন শিক্ষক এমপিওভুক্ত না হওয়ায় নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না—এমন অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষক সংকটের কারণে বিশেষ করে গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছে বলে জানা গেছে। শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,
সরকারি উদ্যোগে বিদ্যালয়টির প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক সংকট নিরসন এবং শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হলে প্রতিষ্ঠানটি আবারও ভালো ফলাফল ও সুনাম ধরে রাখতে পারবে।
অন্যদিকে এলাকায় বাল্যবিবাহের প্রবণতার কারণেও বিদ্যালয়ে মেয়েদের শিক্ষার্থী সংখ্যা দিন দিন কমছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতিও স্থানীয়দের প্রত্যাশা—শিক্ষকতা শুধু চাকরি নয়, এটি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব। তাই শিক্ষক সংকটের মধ্যেও নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিকতা এবং দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো অজুহাতেই যেন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসীরা।





