
তোমাকে হারানো সেই গ্রীষ্ম
লেখক, আম্মান
অর্থনীতি বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
তোমাকে দেখেছি সেই কোন গ্রীষ্মে— তীব্র দাবদাহে যখন কোকিল তৃষ্ণার্ত হয় তব অনুভূতি পেয়েছি তোমাকে হারানোর পর।
অপেক্ষা করতে করতে পেরিয়েছে বর্ষা।
মুষলধারে বৃষ্টিতে ভিজেছে সেই কোকিল।
দেখেছে সে খটখটে শুকনো দিঘীতে ভরা জোয়ার, দেখেছে সে ছোট বালকের মাছ ধরা।
তবুও সে ভুলতে পারেনি গ্রীষ্মের সেই বেদনা।
সে দেখেছে শুকনো দিঘির বুকে ফুটে উঠা প্রাণোচ্ছ্বাস শাপলা।
তবুও সে ভুলতে পারেনি গ্রীষ্মের সেই বেদনা।
যখন শরৎ আসলো পেঁজা তুলোকে নিয়ে— সে ভাবল এবার আসবে তুমি।
মনে মনে ভাবল কাশঁবনের ফুলের রাজ্যের রানী করবে তোমাকে।
দেবী দূর্গার বাজুবন্ধন তোমাকে দিবে।
হিমঝুরি, ছাতিম, মল্লিকা, দেবকাঞ্চনের মালা তোমাকে দিয়ে বরণ করবে দেবী মায়ের মত।
কিন্তু তুমি এলে না ফিরে— তোমার কথা ভুলে যাবার আগেই এলো কুয়াশা নিয়ে হেমন্ত।
হালকা কুয়াশায় যখন শিশির বিন্দু জমে ঘাসের উপর, তোমার কথা মনে পড়ে তখন।
স্মৃতিতে ভেসে আসে শিশিরের মত স্নিগ্ধ পবিত্র তোমার মন।
বাইরে যেতে পারি না আমি তখন, তোমারি স্মৃতি আমাকে জড়িয়ে ধরে ঠিক যেমন ঘন কুয়াশার মতো।
যবে শীত আসে হিমালয়ের হিমেল বাতাস নিয়ে— আড়াল করে দেয় মহারাজ আদিত্যকে তখন অনুভব করি তোমাকে।
তুমি বিনা আমার আদিত্য পতিত হয় অমানিশায়,
শীতের বেদনায় আমার হৃদয় প্রশমিত হয় ঠিক যেমন অগ্নিদগ্ধ লোহাকে যখন কামার ফেলায় জলে।
প্রকৃতির বেদনা রূপ আমাকে রক্ষা করে দংশন থেকে, বাতাসে যখন মাধবীলতার সুরভী নিয়ে ঋতুরাজ বসন্তের আবির্ভাব ঘটে তখন আমার মন পড়ে রয় সেই গ্রীষ্মের হারানো বেদনায়।
দক্ষিনা বাতাস ধীরে ধীরে সরে গিয়ে আবার আসে গ্রীষ্ম, বয়ে আনে বেদনার স্মৃতি।
সকল কিছুই ফিরে পায় প্রকৃতি—
শুধু আমি পাইনা সেই তোমাকেই—





