
বাংলা ভাষায় সুফি তাফসিরের একাডেমিক পরিসর বিস্তারের আহ্বান
চীফ রিপোর্টার মোঃ রেজাউল ইসলাম লাকী (০১৮৪২২২৭৫৭৭)
বাংলা ভাষায় কুরআনের সুফি তাফসিরচর্চাকে আরও বিস্তৃত ও প্রাতিষ্ঠানিক একাডেমিক পরিসরে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে খাজা ওসমান ফারুকী (খাজাজী) রচিত ‘সিররুল কুরআন (ভূমিকা পর্ব)’ গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘সিররুল কুরআন’ গ্রন্থটি প্রচলিত অর্থে একটি পূর্ণাঙ্গ তাফসিরগ্রন্থ নয়; এটি কুরআনের গভীরতর পাঠ ও সুফি তাফসিরের জ্ঞানতাত্ত্বিক ভিত্তি অন্বেষণের পূর্বপ্রস্তুতি হিসাবে রচিত একটি গবেষণাধর্মী গ্রন্থ। এতে কুরআনের অর্থ, ভাষা, বয়ান, তাফসির ও তাদাব্বুর, মুহকাম ও মুতাশাবিহ, যাহির ও বাতিন, আধ্যাত্মিক জ্ঞান এবং কুরআনের বহুমাত্রিক তাৎপর্য নিয়ে প্রশ্ন ও অনুসন্ধানের একটি বিস্তৃত পরিসর নির্মাণের প্রয়াস রয়েছে।
৯ সেপ্টেম্বরে, বুধবার বিকাল ৫টায় রাজধানীর এশিয়া হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে ‘সিররুল কুরআন: খাজা ওসমান ফারুকীর কুরআন-ভাবনা ও সুফি তাফসিরের বহুমাত্রিক দিগন্ত’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
খ্যাতিমান দার্শনিক, অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওসমান গনী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুস সবুর খান।
অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক ছিলেন পীরে তরিকত ড. মাওলানা এ কে এম মাহবুবর রহমান। আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুর রশীদ, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খান, পীরে তরিকত ড. মাওলানা সৈয়দ এমদাদ উদ্দীন নিজামপুরী, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন, ডা. মনজুরে মুরশেদ, অধ্যাপক ড. তওহীদুল হাসান, অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম, পীরে তরিকত শাহ সরোয়ার মুস্তফা আবুলউয়াল্যী, শায়খ উছমান গনী, প্রফেসর ড. শাহ নূরে মুক্তাদির আল সুরেশ্বরী, মাওলানা সৈয়দ ফারহান হোসাইন বরিয়াবরী, জনাব মেহেদী হাসান, জনাব নাইমুল ইসলাম, ডা. ইযহার আবুলউলায়ী, মুফতি মাওলানা হোসাইন রেজা ও মুফতি মাওলানা রিয়াজ উদ্দীনসহ বিশিষ্টজনেরা।
আলোচকরা বলেন, বাংলা ভাষায় সুফি তাফসিরচর্চার একটি শক্তিশালী একাডেমিক ভিত্তি নির্মাণের ক্ষেত্রে ‘সিররুল কুরআন’ গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে পারে। কুরআনের যাহিরি বিধান ও বাতিনি তাৎপর্যকে পরস্পরবিরোধী হিসাবে না দেখে তাদের অন্তর্নিহিত সম্পর্ক অন্বেষণ করা সুফি তাফসিরের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এ ক্ষেত্রে ঐতিহ্যবাহী সুফি তাফসিরের পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞানতত্ত্ব, দর্শন, মনস্তত্ত্ব ও চেতনা-গবেষণার সঙ্গে একটি সৃজনশীল সংলাপের প্রয়োজন রয়েছে বলেও আলোচনায় উঠে আসে।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, কুরআনকে শুধু পাঠ ও ব্যাখ্যার বিষয় হিসাবে না দেখে মানুষের অন্তর্জগত, নৈতিকতা, আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক উপলব্ধির একটি গভীর উৎস হিসাবে পাঠের সুযোগ রয়েছে। বাংলা ভাষাভাষী পাঠকের কাছে সুফি তাফসিরের এই সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে গবেষণাভিত্তিক ও বোধগম্য ভাষায় উপস্থাপনের উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
গ্রন্থটির রচয়িতা খাজা ওসমান ফারুকী (খাজাজী) বলেন, “কুরআনের গভীরে প্রবেশের আগে কুরআনকে কীভাবে পাঠ করতে হবে—এই মৌলিক প্রশ্নগুলোর সঙ্গে পাঠকের একটি প্রাথমিক সংলাপ তৈরি করাই ‘সিররুল কুরআন’-এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে খাজাজী, প্রকাশনা উৎসবে উপস্থিত অতিথি, আলোচক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, পীর-মাশায়েখ, সাংবাদিক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বাংলা ভাষায় সুফি তাফসির ও কুরআন-ভাবনার গবেষণামূলক চর্চাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলা ভাষায় সুফি তাফসির, কুরআন-ভাবনা ও আধ্যাত্মিক জ্ঞানচর্চাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণার আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সুফি সেন্টার আয়োজিত এ প্রকাশনা উৎসবের মধ্য দিয়ে ‘সিররুল কুরআন’ বাংলা ভাষায় সুফি তাফসির ও কুরআন-ভাবনার একটি নতুন গবেষণামুখী পরিসর নির্মাণের প্রয়াস হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে।





