
চিলমারীতে “কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য সহায়তা চাচ্ছেন” সজীব মিয়া
হাবিবুর রহমান, চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের চিলমারীতে “আমার ছোট্ট মা-মনির জন্য আমি, পৃথিবীর আলো-বাতাসে বেঁচে থাকতে চাই। আমার অবর্তমানে সে যেন এতিম হয়ে যাবে। মেয়েটির মুখের দিকে তাকালেই মনে হয়, আমাকে তার জন্য বেঁচে থাকতে হবে। কিন্তু বাঁচতে গেলে, চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা প্রয়োজন। তা আমার ও পরিবারের সামর্থ্যের বাইরে। ”দুর্বল কণ্ঠে কেঁদে কেঁদে কথা গুলো বলছিলেন, “চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের” সরকারপাড়া গ্রামের দুরারোগ্য কিডনি রোগে দীর্ঘদিন থেকে আক্রান্ত সজীব মিয়া (২৮)। তিনি দীর্ঘ ৯বছর ধরে ক্রনিক কিডনি ডিজিজে ভুগছেন। বর্তমানে তার দুই কিডনির কার্যক্ষমতা অনেক গুণে কমে গেছে। চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন।
“সজীব মিয়া” রমনা ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেন ও গৃহিণী মেহেনা বেগম দম্পতির চার ছেলের মধ্যে সব ছোট। চিকিৎসকের তথ্য অনুযায়ী, তার ডান কিডনির কার্যক্ষমতা ১৭.১শতাংশ এবং বাম কিডনির ১১.৬শতাংশ—অর্থাৎ মোট কার্যক্ষমতা ২৮.৭ শতাংশ। সজীব মিয়া জানান, ২০১৭সালের ৯অক্টোবর সে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরে ক্রিয়েটিনিন ১৫পাওয়া যায়। এরপর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ ভারতের চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালেও চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি। দীর্ঘ দিনের চিকিৎসায় তার দরিদ্র বাবা-মা স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ২০থেকে ২৫লাখ টাকা ব্যয় করেছেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, উপযুক্ত ডোনার পাওয়া গেলে কিডনি প্রতিস্থাপনে প্রায় ৭-৮লাখ টাকা এবং ডোনার পাওয়া না গেলে প্রায় ৩০লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
সজীবের ৭৫বছর বয়সী বাবা আগে কৃষি কাজ করলেও বর্তমানে বয়সের ভারে নিয়মিত ভাবে কাজ করতে পারেন না। স্থানীয় একটি মসজিদে খাদেমের দায়িত্ব পালন, এতে যে আয় করেন, তা দিয়ে সংসার চালানোই বড় কঠিন হয়ে পড়েছেন। ছেলেকে নিজের একটি কিডনি দিতে চাইলেও বয়স ও শারীরিক জটিলতার কারণে চিকিৎসকরা তাকে ডোনার হিসেবে উপযুক্ত মনে করেন নি বলে জানাযায়।
অসুস্থ হওয়ার আগে গাজীপুর ও ঢাকায় তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন সজীব মিয়া। নিজের উপার্জনে বাবা-মায়ের সংসারেও সহযোগিতা করতেন। বর্তমানে অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারিয়ে স্ত্রী ও আড়াই বছর বয়সী কন্যা সন্তানকে নিয়ে সংসার চালানো এবং নিজের চিকিৎসা ব্যয় বহন করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছেন।
সজীব মিয়া বলেন, “আমার মেয়েটা এখনো ছোট। তার ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমি বাঁচতে চাই। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষ যদি পাশে দাঁড়ান, তাহলে হয়তো আমি আবার পরিবারের কাছে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব। ”সজীবের চিকিৎসার জন্য মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
তার সাথে যোগাযোগ- মোঃ সজীব মিয়া— ০১৯৯৮-৪৫০৪৭০ (বিকাশ ও নগদ)।
ব্যাংক- সোনালী ব্যাংক, চিলমারী শাখা
হিসাব নম্বর- ৫২০৪৩০১০২৪৩২২.





