
কুড়িগ্রামে আমন আবাদে সারের জোগান বাড়ল, অতিরিক্ত ৫০০ টন ইউরিয়া।
মোঃ জাফর আহমেদ
কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আমন মৌসুমে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও কৃষকদের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দূর করতে কুড়িগ্রামে অতিরিক্ত ৫০০ টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) সম্প্রতি এ অতিরিক্ত বরাদ্দের অনুমোদন দিয়েছে। এতে উত্তরের সীমান্তঘেঁষা এই জেলার আমন চাষে সারের জোগান আরও নিশ্চিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসে কুড়িগ্রামের জন্য মোট ১২ হাজার ৪৮৩ টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসে বরাদ্দ রয়েছে ৪ হাজার ৬৪৪ টন। গত বছরের একই সময়ে বরাদ্দ ছিল ৩ হাজার ৮৯৪ টন। অর্থাৎ এবার সেপ্টেম্বর মাসে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭৫০ টন বেশি ইউরিয়া বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে নতুন করে আরও ৫০০ টন যুক্ত হয়েছে।
তবে বরাদ্দের পাশাপাশি সারের সুষ্ঠু বিতরণ ও বাজারে কৃত্রিম সংকট ঠেকানোকে গুরুত্ব দিচ্ছে জেলা প্রশাসন। বিসিআইসি ও বিএডিসির নিবন্ধিত ডিলারদের কার্যক্রম জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে। অসাধু চক্রের মাধ্যমে মজুতদারি, কারসাজি কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা হলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণ দেবনাথ জানান, চলতি আমন মৌসুমে সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নিবন্ধিত ডিলারদের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকের কাছে সরকারি মূল্যে সার পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। বাজারে কোনো ধরনের কারসাজি বা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্য জেলাজুড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও প্রশাসনিক তদারকি অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আমন ধানের বর্তমান বৃদ্ধিপর্যায়ে অতিরিক্ত ইউরিয়া প্রয়োগের প্রয়োজন নেই। সুষম ও পরিমিত মাত্রায় সার ব্যবহার করলে উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ধানের গুণগত মান ও ফলন ভালো রাখা সম্ভব। এ বিষয়ে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সচেতনতা দেওয়া হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, জেলার সারের মজুত পরিস্থিতি বর্তমানে সন্তোষজনক। কৃষকদের সুষম মাত্রায় ইউরিয়া ও ডিএপি সার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রেখে কাঙ্ক্ষিত ফলন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
অতিরিক্ত ৫০০ টন ইউরিয়া বরাদ্দ এবং প্রশাসনের নজরদারির কারণে আমন মৌসুমে সারের সরবরাহ পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা। সরকারি মূল্যে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কমবে এবং কৃষকরাও স্বস্তিতে আমন আবাদ চালিয়ে যেতে পারবেন বলে মনে করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।





