
যশোরে সরকারি অফিসে অপচয়: খালি কক্ষে চলছে লাইট- ফ্যান, প্রশ্ন করতেই সাংবাদিকদের হুমকি কর্মচারীর
যশোর প্রতিনিধি :
রফিকুল ইসলাম সবুজ
দেশজুড়ে যখন বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকারি স্তরে সাশ্রয়ের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে, তখন যশোর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে দেখা গেছে বিপরীত চিত্র। কক্ষে কোনো লোক না থাকলেও অকাতরে চলছে লাইট ও ফ্যান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উল্টো সাংবাদিকদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে অফিসের হিসাব রক্ষক কাম ক্যাশিয়ার মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের হিসাব রক্ষক কাম ক্যাশিয়ার মোস্তাফিজুর রহমান (যিনি অফিসে ‘বড় বাবু’ নামে পরিচিত) সম্প্রতি নিজের কক্ষে লাইট ও ফ্যান চালক রেখে বাইরে চলে যান। দীর্ঘ সময় ধরে ফাঁকা কক্ষে লাইট-ফ্যান চলতে দেখে উপস্থিত সাংবাদিকরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি চরম ক্ষিপ্ত হন।
মোস্তাফিজুর রহমান দায়িত্বশীল আচরণ না করে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “১৪ বছর ধরে কোন সাংবাদিক এই প্রশ্ন করেনি, সামান্য বিষয় নিয়ে আপনারা কেন কথা বলেন? ১৪ বছর আগেও তো বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল। তখন তো কেহ জিজ্ঞেস করেনি। আপনাদের লাইট ফ্যান চলে কেন। আপনাদের যা ইচ্ছে নিউজ করেন।”
বিদ্যুৎ সংকটের এই সময়ে একজন সরকারি কর্মচারীর এমন বেপরোয়া ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যে স্থানীয় সচেতন মহল তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সাধারণ মানুষের মতে, যেখানে সরকার বিদ্যুৎ অপচয় রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেখানে সরকারি কর্মচারীদের এমন খামখেয়ালিপনা ও গণমাধ্যমকর্মীদের হুমকি দেওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়। বিশেষ করে যশোর জেলা যেখানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর নিজস্ব এলাকা, সেখানে সরকারি কর্মকর্তাদের আরও বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
বিষয়টি নিয়ে যশোর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. সেফাউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ফাঁকা কক্ষে লাইট-ফ্যান ঘুরে বিদ্যুৎ অপচয়ের বিষয়টি তিনি অবগত ছিলেন না। তিনি বলেন, “ঠিক আছে, আমি খোঁজ নিয়ে বিষয়টির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।”





