
রক্তাক্ত ৫ আগস্টের স্মরণে যশোরে বিএনপির বিশাল সমাবেশ ও র্যালি
গণঅভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তিতে “শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ” গড়ার শপথ
যশোর প্রতিনিধি :
রফিকুল ইসলাম সবুজ
যশোর, ৫ আগস্ট ২০২৬: ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান এবং ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের ২য় বর্ষপূর্তি যশোরে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে যশোর জেলা বিএনপির আয়োজনে বিশাল সমাবেশ ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। একই সাথে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এর পক্ষ থেকেও পৃথক সমাবেশ ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় শহরের মুজিব সড়ক থেকে বর্ণাঢ্য র্যালিটি বের হয়। র্যালিতে “৫ আগস্টের শপথ, গণতন্ত্রের পথ”, “শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না” স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে যশোরের রাজপথ। র্যালিটি শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা বিএনপির সভাপতি বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় দিন। ছাত্র-জনতার বুকের রক্তের বিনিময়ে আমরা ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছি। কিন্তু শহীদদের রক্তের সাথে বেইমানি করা যাবে না। আমাদের এখনই শহীদদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হবে।”
সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার গত ১৫ বছর মানুষের ভোটের অধিকার, বাক স্বাধীনতা সবকিছু কেড়ে নিয়েছিল। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান সেই সব অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে। তারা দ্রুত জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানান।
এদিকে ৫ আগস্ট উপলক্ষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এর পক্ষ থেকেও শহরে সমাবেশ ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং শহীদ পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, এই দিনটি শুধু স্মরণের দিন নয়, এটি শপথের দিন। শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশে জেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে। এই দিনটিকে বাংলাদেশের মানুষ “দ্বিতীয় বিজয় দিবস” হিসেবেও অভিহিত করে থাকেন।





