
সীতাকুণ্ডে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ।
নিজ্জ্বল সাহা
স্টাফ রিপোর্টার,
চট্টগ্রাম জেলা।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। আবেদনকারীদের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশের যোগসাজশে ভাতাভোগীদের মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করে অন্য নম্বরে ভাতার টাকা পাঠানো হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভাতার জন্য আবেদন করার সময় ফরমে দেওয়া নগদ নম্বর সঠিক থাকলেও পরবর্তীতে অনলাইন আবেদনে ওই নম্বর পরিবর্তন করে দেওয়া হয়। ফলে প্রকৃত ভাতাভোগীর পরিবর্তে অন্য ব্যক্তির মোবাইল নম্বরে টাকা চলে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ভাতা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সিম বন্ধ রাখা হয় এবং টাকা উত্তোলনের সময় তা পুনরায় চালু করা হয়।
সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে সৈয়দপুর, বারৈয়ারঢালা, মুরাদপুর, বাড়বকুণ্ড, বাঁশবাড়িয়া, কুমিরা, সোনাইছড়ি, ভাটিয়ারী ও সলিমপুর ইউনিয়ন এবং সীতাকুণ্ড পৌরসভা।
কুমিরা এলাকার এক ভুক্তভোগী জানান, তিনি বয়স্ক ভাতার জন্য আবেদন করে প্রথমে দুই কিস্তি টাকা পেয়েছিলেন। এরপর আর কোনো ভাতা পাননি। ইউনিয়ন পরিষদে যোগাযোগ করলে তাকে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যেতে বলা হয়। আবার সমাজসেবা কার্যালয়ে গেলে ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়।
আরেক ভুক্তভোগী শামসুর নাহার অভিযোগ করেন, তার নামে চার কিস্তি ভাতা দেওয়া হয়েছে বলে সমাজসেবা কার্যালয় থেকে জানানো হলেও তিনি কোনো টাকা পাননি। তার দাবি, তার নিজের নগদ নম্বরে কোনো ভাতার টাকা আসেনি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অনলাইন আবেদন যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, আবেদনকারীর নাম ও অন্যান্য তথ্য ঠিক থাকলেও মোবাইল নম্বর পরিবর্তিত রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তথ্য চাইতে গেলে তাদের বিভিন্নভাবে ঘোরানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য, সচিব, কম্পিউটার অপারেটর ও চৌকিদারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক কয়েকজন ইউপি সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামও অভিযোগের সঙ্গে উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীদের দাবি, সমাজসেবা কার্যালয়ের ইউনিয়নভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ কেউ এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তারা সংশ্লিষ্ট ভাতার অনলাইন আবেদন ও পেমেন্ট সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে প্রকৃত ঘটনা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, একটি চক্র ভাতার টাকা গ্রহণের জন্য একাধিক মোবাইল সিম ব্যবহার করে। ভাতার টাকা নির্দিষ্ট নম্বরে জমা হওয়ার পর সিম বন্ধ করে রাখা হয় এবং টাকা উত্তোলনের সময় সিম চালু করা হয়—এমন অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও নথিপত্র যাচাই করা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভাতাবঞ্চিতরা।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সংরক্ষিত অনলাইন আবেদন, মোবাইল নম্বর পরিবর্তনের তথ্য এবং ভাতা প্রদানের লেনদেনের রেকর্ড যাচাই করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। তারা দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ভাতাভোগীদের বকেয়া ভাতা প্রদান এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।





