
ফরিদপুরে মাদক ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর
মামুন মিঞা, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি
ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নে মাদক সংক্রান্ত বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে থানা পুলিশ। এ সময় পুলিশের ব্যবহৃত একটি পিকআপভ্যান ভাঙচুর করে এর চাবি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। গুরুতর আহত দুইজনকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের গোলজারমন্ডলের ডাঙ্গীর আক্কাচ আলীর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এক পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন বক্কার শিকদার (৪২) এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন রাজা মিয়ার ছেলে ওমানপ্রবাসী টুলু মিয়া (৩৫)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট গোলজারমন্ডলের ডাঙ্গী এলাকায় স্থানীয় যুবক শাকিল ও তার কয়েকজন বন্ধু ইয়াবা সেবন করছিলেন। ওই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করেন টুলু মিয়া, সুমনসহ কয়েকজন। পরে ওই ভিডিও দেখিয়ে শাকিলের কাছে টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরপর শাকিলের পক্ষের লোকজন টুলু মিয়াকে টাকা নেওয়ার জন্য ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। টুলু সেখানে গেলে তাকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানায় নিয়ে যায়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনার জের ধরে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে টুলু মিয়া পার্শ্ববর্তী মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে ১৫-২০টি মোটরসাইকেলে লোকজন নিয়ে গোলজারমন্ডলের ডাঙ্গী ও আক্কাচ আলীর মোড়ে মহড়া দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় আগের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মুদি দোকানি বক্কার শিকদার ও মান্নানকে মারধর করে তারা চলে যায়।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে বক্কার শিকদারের পক্ষের লোকজন উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তারা টুলু মিয়াকে না পেয়ে তার বাবা রাজা মিয়া (৭০) ও স্থানীয় জয়নাল শিকদার (৬৫)কে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে কয়েক শত লোক তাদের ঘিরে রাখে।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত রাজা মিয়া ও জয়নাল শিকদারকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে চাইলে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে বাধা দেয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন পুলিশের পিকআপভ্যানে হামলা চালিয়ে গাড়ির পর্দা ছিঁড়ে ফেলে এবং চাবি নিয়ে যায়।
পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর আহত রাজা মিয়া ও জয়নাল শিকদারকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয় মিন্টু মৃধা বলেন, টুলু মিয়া ওমানে থাকেন এবং মাঝে মধ্যে দেশে এসে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। শুক্রবারের ঘটনার পর শনিবার সকাল ১০টার ফ্লাইটে তিনি আবার ওমানে চলে গেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আগের ঘটনার দিন টুলুর ভাই নিলু মিয়া রামদা নিয়ে এলাকায় এসেছিলেন। তখন বক্কারের ছেলে লালচান তাকে আটক করে পুলিশের কাছে দেন। এ ঘটনার জের ধরেই বক্কারকে মারধর করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
এ বিষয়ে বক্কার শিকদার ও টুলু মিয়ার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্থানীয় আধিপত্য, মাদকসহ বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের ওপর হামলা করে পিকআপভ্যান ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে গাড়িটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের কাজে বাধা ও হামলার ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি এবং কাউকে আটক করা হয়নি।





