সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৫১ পূর্বাহ্ন [gtranslate]
ব্রেকিং নিউজঃ
নওগাঁয় গল্প ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে ফিজিক্যাল মিটআপ অনুষ্ঠিত রামপালে শিক্ষা উপকরণ পেয়ে হাসল শিক্ষার্থীদের মুখ স্কুল ব্যাগসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, ৪ প্রতিষ্ঠানের ৮৫৩ শিক্ষার্থী পেল সহায়তা লন্ডন প্রবাসী নাসির উদ্দিনমের উদ্যোগে সেলাই প্রশিক্ষনে মেধাবীদের সম্মাননা উপহার প্রদান নবাগত জেলা প্রশাসককে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাল গাইবান্ধা জেলা বিএনপি বর্তমানে আদর্শ মানুষ হওয়া ছাত্রসমাজের কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন থাকা প্রয়োজন ——কুতুব আল ফরহাদ শার্শায় সীমান্ত এলাকায় ৩ কেজি গাঁজাসহ বিভিন্ন চোরাচালানী পণ্য আটক সার না পেয়ে ডিলার পয়েন্টের গুদামের দরজা ভেঙে ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে গেলেন কৃষকেরা ময়মনসিংহে চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় নারী আটক শেরপুর পৈত্রিক সম্পত্তির দাবিতে ভাইয়ের প্রতিষ্ঠানে ৮ ভাই-বোনের তালা কুমিল্লায় ফিশারিতে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার।
বিজ্ঞপ্তিঃ
ব্রেকিং নিউজ*** দেশও বিদেশ খবর পেতে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন।*বিজয় ২৪ টিভি  খবর ও বিজ্ঞাপন প্রচার করতে  যোগাযোগ করুন:gmail :bijoy24tv2024@gmail.com* হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার ০১৭৪৩৮৮৯০৬৮।*সবার পাশে Bijoy 24 TV* আপনারা দেখছেন বিজয় ২৪ টিভি ধন্যবাদ।
রাজপথ থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব: রুহুল কবির রিজভীর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা
/ ৪ Time View
Update : শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫৩ পূর্বাহ্ন

রাজপথ থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব: রুহুল কবির রিজভীর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা
মোঃ জাফর আহমেদ কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতাঃ২২,আগস্ট ২৬, শনিবার
বাংলাদেশের রাজনীতিতে রুহুল কবির রিজভী আহমেদের উত্থান কোনো পারিবারিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকার কিংবা প্রশাসনিক পদ থেকে নয়—ছাত্রজীবনের রাজপথ থেকে। আন্দোলন-সংগ্রাম, গ্রেপ্তার-কারাবরণ, দলীয় কার্যালয়ে দীর্ঘদিন অবস্থান, সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন এবং দলের কঠিন সময়ে প্রকাশ্য রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্য দিয়ে ধাপে ধাপে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে এসেছেন তিনি।
২০ আগস্ট ২০২৬ বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭(খ)(৬) ধারা অনুযায়ী জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মনোনীত করা হয়। সিদ্ধান্তটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়। সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর মহাসচিবের পদ শূন্য হলে রিজভীর ওপর এ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।
কুড়িগ্রামের মাটি থেকে উঠে আসা
রুহুল কবির রিজভীর পৈতৃক নিবাস কুড়িগ্রাম। স্থানীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম শহরের হিঙ্গণরায় সর্দারপাড়ায় ৫নংওয়ার্ডে তার জন্ম। তার বাবার নাম আব্দুল কুদ্দুস। তিনি দুই ভাই ও চার বোনের মধ্যে তৃতীয়। শৈশবের একটি সময় কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। বাবার চাকরির কারণে পরে বগুড়ায় গিয়ে এসএসসি সম্পন্ন করেন বলে স্থানীয় সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। এরপর রাজশাহীতে থেকে উচ্চশিক্ষা ও রাজনীতিতে যুক্ত হন।
তবে জাতীয় পর্যায়ের একাধিক প্রতিবেদনে তার পৈতৃক নিবাস কুড়িগ্রাম এবং শিক্ষাজীবনের মূল তথ্য নিশ্চিত করা হলেও জন্মস্থান ও পারিবারিক বিস্তারিত তথ্যের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রতিবেদনের তথ্যই বেশি বিস্তৃত। তাই এসব তথ্যকে স্থানীয় সূত্রভিত্তিক তথ্য হিসেবে দেখা শ্রেয়।
শিক্ষা জীবন
রুহুল কবির রিজভী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা এবং ইতিহাস বিষয়ে স্নাতকোত্তর (এমএ) ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি আইন বিষয়ে স্নাতক—এলএলবি—ডিগ্রিও লাভ করেন।
শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি ছাত্ররাজনীতিই তার জীবনের অন্যতম প্রধান পরিচয় হয়ে ওঠে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে তার রাজনৈতিক পরিচিতি দ্রুত বিস্তৃত হয়।
বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন থেকে ছাত্ররাজনীতির শুরু
উচ্চমাধ্যমিক শেষ করার পর রুহুল কবির রিজভী বামপন্থি সংগঠন বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতিতে প্রবেশ করেন। রাজশাহী সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে যোগ দেন।
ছাত্রদলে যোগ দেওয়ার পর তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নতুন গতি পায়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক এবং পরে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর কেন্দ্রীয় পর্যায়ে উঠে এসে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
রাকসুর ভিপি: রাজপথের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়
রুহুল কবির রিজভীর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ১৯৮৯ সালের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ—রাকসু নির্বাচন।
ওই নির্বাচনে তিনি সহসভাপতি বা ভিপি নির্বাচিত হন এবং ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তখন দেশে এরশাদবিরোধী আন্দোলন তীব্র। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। সেই উত্তাল সময়ের ছাত্রনেতা হিসেবে রিজভীর রাজনৈতিক পরিচিতি আরও দৃঢ় হয়।
স্থানীয় প্রতিবেদনে তার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে গুরুতরভাবে গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ ঘটনার তারিখ ও বিস্তারিত বর্ণনায় বিভিন্ন সূত্রে পার্থক্য রয়েছে; তাই এটিকে তার রাজনৈতিক জীবনের একটি বহুল প্রচারিত ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা যায়, কিন্তু নির্দিষ্ট তারিখ বা ঘটনার সব বিবরণকে একই মাত্রায় নিশ্চিত তথ্য হিসেবে ধরা উচিত নয়।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতি থেকে রুহুল কবির রিজভী জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে উঠে আসেন। একপর্যায়ে তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রদলের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে তাকে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে উত্থান
ছাত্ররাজনীতির অধ্যায় শেষ করে রুহুল কবির রিজভী বিএনপির মূল রাজনীতিতে সক্রিয় হন। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং দলের বক্তব্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে থাকেন।
বিশেষ করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়াপল্টন তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে। দলের কঠিন সময়ে সংবাদ সম্মেলন, রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় তাকে নিয়মিত সক্রিয় দেখা যায়। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএনপির কঠিন পরিস্থিতিতেও তিনি দীর্ঘদিন নয়াপল্টন কার্যালয়ে থেকে দলের পক্ষে কথা বলেছেন।
সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব
২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। এর মধ্য দিয়ে ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতা বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে স্থায়ী অবস্থান তৈরি করেন।
দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম, রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং গণমাধ্যমে বিএনপির বক্তব্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ক্রমেই বাড়তে থাকে।
দুঃসময়ে নয়াপল্টনের পরিচিত মুখ
বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটের সময় রুহুল কবির রিজভীর সবচেয়ে দৃশ্যমান ভূমিকা ছিল দলীয় কার্যালয়কেন্দ্রিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে।
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের অনেকে যখন মামলা, গ্রেপ্তার বা আত্মগোপনের কারণে মাঠে সীমিত ছিলেন, তখন নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দলের অবস্থান তুলে ধরতেন রিজভী। প্রায় প্রতিদিনই তাকে দলীয় কর্মসূচি ঘোষণা, রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া কিংবা নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেখা যেত।
এই কারণেই বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে তিনি কেবল একজন কেন্দ্রীয় নেতা নন, বরং দলের দুঃসময়ের দৃশ্যমান মুখ হিসেবেও পরিচিতি পান।
গ্রেপ্তার, মামলা ও কারাবরণ
রুহুল কবির রিজভীর রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার গ্রেপ্তার ও কারাবরণের ঘটনাও রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১২ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০১৩ সালেও নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ২০১৫ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ও তার আত্মগোপন ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর। ১০ দিগেলা ঢাকায় বিএনপির গণসমাবেশ কোথায় হবে, এ নিয়ে বিতর্ক ও আলোচনার মধ্যেই ৭ ডিসেম্বর বিকেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় নয়া পল্টন। সংঘর্ষে মকবুল আহমেদ নদের এক জন নিয়ত ও বিএনপির অর্ধশত নেতা-কর্মী ও সমর্থক বিকেল সাড়ে চারটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত পুলিশ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালায় এবং এতে রহুল কবিরসহ প্রায় ৩০০ গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি প্রায় ১৪০ দিন কারাগারে থাকার পর ২০২৩ সালের ২৫ এপ্রিল মুক্তি পান।
কারাগার থেকে মুক্তির পরও তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেমে থাকেনি। আবার নয়াপল্টন কার্যালয়ে ফিরে এসে সংবাদ সম্মেলন ও দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় হন।
২০২৬: দায়িত্বের পর দায়িত্ব
২০২৬ সাল রুহুল কবির রিজভীর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বছরগুলোর একটি হয়ে ওঠে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তাকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে মন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগ দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এরপর আসে আরও বড় দায়িত্ব।
জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে রিজভী
১৫ আগস্ট ২০২৬ বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে রুহুল কবির রিজভীকে মনোনীত করা হয়।
দলের সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং দলীয় সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে তাকে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে দলীয় বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
অর্থাৎ মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে তার দায়িত্বের পরিধি দাঁড়ায়—নির্বাচন পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য।
ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব: দীর্ঘ পথের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব
এর মাত্র পাঁচ দিন পরেই আসে তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
২০ আগস্ট ২০২৬ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপি মহাসচিবের পদ শূন্য হয়। একই দিনে বিএনপি ঘোষণা করে, দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মনোনীত করা হয়েছে।
বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭(খ)(৬) ধারা অনুযায়ী এই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।
এভাবেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা, রাকসুর ভিপি, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও স্থায়ী কমিটির সদস্যের পথ পেরিয়ে রুহুল কবির রিজভী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্বে পৌঁছান।
নয়াপল্টনের ছোট কক্ষ থেকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বে
রিজভীর রাজনৈতিক উত্থানের একটি প্রতীকী দিক হলো—দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ছোট্ট কক্ষটি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।
দলের দুঃসময়ে অনেক নেতা যখন নানা কারণে প্রকাশ্যে সক্রিয় থাকতে পারেননি, তখন নয়াপল্টনে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরেছেন রিজভী। রাজনৈতিক কর্মসূচি, মামলা, গ্রেপ্তার কিংবা সরকারের বিরুদ্ধে দলীয় বক্তব্য—প্রায় সব ক্ষেত্রেই তাকে সামনে দেখা গেছে।
সেই অর্থে তার রাজনৈতিক পথচলা শুধু পদোন্নতির ধারাবাহিকতা নয়; বরং দলের সংকটকালীন দৃশ্যমান ভূমিকারও ইতিহাস।
কর্মীদের কাছে কেন আস্থার ঠিকানা
রুহুল কবির রিজভীর রাজনৈতিক পরিচয়ের একটি বড় অংশ গড়ে উঠেছে তৃণমূল ও মাঠের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘ যোগাযোগের মাধ্যমে।
কুড়িগ্রামে তার ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নেতাকর্মীরা মিষ্টি বিতরণ, আনন্দ মিছিল ও দোয়ার আয়োজন করেন। স্থানীয় বিএনপি নেতারা তাকে দলের জন্য ত্যাগী, নিরহংকার ও দীর্ঘদিনের সংগ্রামী নেতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তার রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ সময় ধরে দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান এবং সংকটের সময় দলের বক্তব্য প্রকাশ্যে তুলে ধরার কারণে বিএনপির কর্মীদের একটি অংশের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।
কুড়িগ্রামের সঙ্গে নাড়ির সম্পর্ক
জাতীয় রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ে উঠে গেলেও কুড়িগ্রামের সঙ্গে তার সম্পর্ক অটুট রয়েছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কুড়িগ্রামের নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্যা, নদীভাঙন, শীতসহ বিভিন্ন দুর্যোগে তিনি নিজ এলাকায় আসেন এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয় নেতারা কুড়িগ্রামের অবকাঠামো, শিক্ষা ও যোগাযোগ উন্নয়নে তার ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেছেন। এসব দাবির মধ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য রয়েছে, তাই এগুলোকে তাদের বক্তব্য হিসেবেই উপস্থাপন করা যুক্তিযুক্ত।
লেখক রিজভী
রাজনীতির পাশাপাশি রুহুল কবির রিজভীর সাংবাদিকতার পাশাপাশি লেখালেখির পরিচয়ও রয়েছে। আপনার দেওয়া জীবনবৃত্তান্তে তার বই হিসেবে ‘সময়ের স্বরলিপি’ ও ‘অবরুদ্ধ দিনলিপি’-র উল্লেখ রয়েছে।
রাজনীতির পাশাপাশি লেখা তার চিন্তা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সময়কে ধারণ করার আরেকটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এই দুই বইয়ের প্রকাশনা-সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য নির্ভরযোগ্য উন্মুক্ত সূত্রে আমি নিশ্চিতভাবে পাইনি; তাই বই দুটির প্রকাশক, সাল বা বিস্তারিত বিষয়বস্তু এখানে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে যোগ করা হয়নি।
২০২৬ সালের নতুন অধ্যায়
রুহুল কবির রিজভীর ২০২৬ সালের রাজনৈতিক পথচলাটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ—
১৭ ফেব্রুয়ারি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে মন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগের তথ্য প্রকাশিত হয়।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন: বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করেন।
১৫ আগস্ট: বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মনোনীত হন।
২০ আগস্ট: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মনোনীত হন।
এই ধারাবাহিকতা দেখায়, ২০২৬ সালে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে রিজভীর সাংগঠনিক ও নীতিনির্ধারণী দায়িত্ব ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে।
রাজপথ থেকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব
রুহুল কবির রিজভীর রাজনৈতিক জীবনকে এক লাইনে বললে—ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু, রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয়তা, রাকসুর ভিপি, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, বিএনপির সাংগঠনিক দায়িত্ব, দীর্ঘ দুঃসময়ে দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান, গ্রেপ্তার-কারাবরণ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, রাজনৈতিক উপদেষ্টা, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং শেষ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।
তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির মাঠ ও কেন্দ্রীয় রাজনীতির মাঝখানে একটি দৃশ্যমান সেতু হিসেবে কাজ করেছেন। ২০২৬ সালের ২০ আগস্টের সিদ্ধান্ত সেই দীর্ঘ পথচলাকে বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্বের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর একটিতে নিয়ে গেছে।
কুড়িগ্রামের মাটি থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজপথ, রাকসুর ভিপি থেকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি, নয়াপল্টনের ছোট কক্ষ থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব—রুহুল কবির রিজভীর রাজনৈতিক পথচলা মূলত দীর্ঘ সংগ্রাম, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও দলের সংকটকালে দৃশ্যমান থাকার এক ধারাবাহিক ইতিহাস।
ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কুড়িগ্রাম শহর জুড়ে আনন্দ উল্লাসে ভরে ওঠ সে উপলক্ষে মিষ্টি বিতরণ করেন কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল মোড়ে, আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, মোসলেমা বেগম মিলি সহ ছাত্রদল যুবদলের অসংখ্য নেতা কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবুর উদ্যোগে ঘোষপাড়ায় মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
‎এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য আলহাজ্ব ওমর ফারুক, আবু বক্কর সিদ্দিক, আশরাফ আলী, ইদ্রিস আলী মাসুদ রানা বাবু।
এছাড়া বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Our Like Page

Archive Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
Verified by MonsterInsights