
বিদ্যুৎ সংকটকালীন যশোর সদর এলএসডিতে অনিয়ম: জ্বলছে বাতি,ঘুড়ছে ফ্যান ,ওড়ানো হয় না জাতীয় পতাকা
যশোর প্রতিনিধি:
রফিকুল ইসলাম সবুজ
সারাদেশে যখন বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় সরকারি নির্দেশনা মেনে রাত ৮টার পর শপিং মল ও দোকানপাট বন্ধ রাখা হচ্ছে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, ঠিক তখনই যশোর সদর খাদ্য গুদামে (এলএসডি) দেখা গেছে চরম অবহেলা ও অপচয়ের চিত্র। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কার্যালয় যশোর সদর এলএসডিতে স্কেল রুমে বিদ্যুৎ সংকটকালীন সময়েও ঘন্টার পর ঘন্টা অহেতুক জ্বলছে আলো এবং ঘুরছে ফ্যান। শুধু বিদ্যুৎ অপচয়ই নয়, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত উত্তোলন করা হয় না জাতীয় পতাকাও।
সরেজমিনে দেখা যায়, যশোর সদর এলএসডির স্কেল রুমে বিদ্যুৎ থাকা অবস্থায় তো বটেই, এমনকি বিদ্যুৎ না থাকার পর পুনরায় বিদ্যুৎ এলে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইট ও ফ্যান সচল থাকে, অথচ রুমে কেউ উপস্থিত থাকেন না। এ বিষয়ে অফিসের সিকিউরিটি অফিসার মেসবাহ উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি দায়সারা জবাব দিয়ে বলেন, “ওখানে সবাই বসে। বিদ্যুৎ ছিল না, আমি চলে এসেছি, তাই হয়তো বন্ধ করা হয়নি।”
অন্যদিকে, সরকারি অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের স্পষ্ট বিধিমালা থাকলেও যশোর সদর এলএসডিতে তা মানা হচ্ছে না। নিয়মিত জাতীয় পতাকা না ওড়ানোর বিষয়ে যশোর খাদ্য পরিদর্শক আশরাফ ইউসুফের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি জানান, পতাকা উত্তোলনের নাকি কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তার দাবি, “জেলা অফিস পতাকা উত্তোলন করে। আমি শিওর যে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই এ অফিসে পতাকা উত্তোলনের, আপনারা জেনে দেখতে পারেন—বিভিন্ন বিশেষ দিবস ছাড়া পতাকা উত্তোলন করা হয় না।” আর স্কেল রুমে বিদ্যুৎ অপচয়ের বিষয়ে তিনি দায়সারা ভাবে বলেন, সেখানে সবার যাতায়াত থাকায় কেউ হয়তো ভুলে লাইট-ফ্যান জ্বালিয়ে রেখে গেছে।
এ সকল অনিয়ম এবং কর্মকর্তাদের উদাসীনতার বিষয়ে জানতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সেফাউর রহমানের ব্যবহৃত মুঠোফোনে (০১৭২৩০৯৬৪৫৫) একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ অপচয় এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলনে কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।





