
প্রার্থীর মেলা, নেতৃত্বের পরীক্ষা!
রামপালের ইউপি নির্বাচন ঘিরে চেয়ারম্যান-মেম্বার প্রার্থীর তৎপরতা; ভোটারের সামনে যোগ্যতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন আরিফ হাসান গজনবী
রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় বাড়ছে নির্বাচনী তৎপরতা। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীদের গণসংযোগ, মতবিনিময় ও প্রচারণায় নির্বাচনী আবহ তৈরি হয়েছে। পাড়া-মহল্লা, হাটবাজার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলছে আলোচনা।
একই পদে একাধিক প্রার্থীর আগ্রহকে অনেকেই দেখছেন নির্বাচনী প্রতিযোগিতার স্বাভাবিক অংশ হিসেবে। তবে এর পাশাপাশি সামনে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন—প্রার্থী হওয়ার আগ্রহের সঙ্গে জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি ও সক্ষমতার বিষয়টি কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে?
ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তর। চেয়ারম্যান পরিষদের নেতৃত্ব দেন, আর সদস্যরা ওয়ার্ডের মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি পরিষদের সভায় তুলে ধরার পাশাপাশি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। ফলে দুটি পদই শুধু সামাজিক মর্যাদার বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জনসেবা ও জবাবদিহির দায়িত্ব।
রামপালের গৌরম্ভা, উজলকুড়, বাইনতলা, রামপাল, হুড়কা, রাজনগর, পেড়িখালী, ভোজপাতিয়া, মল্লিকেরবেড় ও বাঁশতলী ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা বাড়ছে। তবে প্রার্থী বেশি হওয়াকে সমস্যা হিসেবে না দেখে, প্রার্থীদের মূল্যায়নের মানদণ্ড কী হবে—সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী চেয়ারম্যান ও সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শিক্ষাগত ডিগ্রি বাধ্যতামূলক নয়। তাই শুধু শিক্ষাগত পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে যোগ্য বা অযোগ্য বলা যায় না। বরং সততা, দায়িত্ববোধ, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, স্থানীয় সমস্যা বোঝার সক্ষমতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা এবং জনগণের কাছে জবাবদিহির মানসিকতা—এসব বিষয়ও বিবেচনায় থাকা প্রয়োজন।
নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার, গণসংযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তৎপরতা সহজেই নজর কাড়ে। কিন্তু জনপ্রতিনিধির প্রকৃত মূল্যায়ন হয় নির্বাচনের পর। কে কতটা মানুষের সমস্যা শুনবেন, পরিষদের কাজে সক্রিয় থাকবেন এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি করবেন—শেষ পর্যন্ত সেটিই হয়ে উঠবে গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাচন কমিশন ২০২৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আচরণবিধির গেজেট প্রকাশ করেছে। ফলে নির্বাচনী প্রতিযোগিতার পাশাপাশি আচরণবিধি মেনে প্রচারণা পরিচালনার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে রামপালের আসন্ন ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী যতই বাড়ুক, ভোটারের সামনে মূল পরীক্ষা হলো—পরিচয় ও প্রচারণার বাইরে গিয়ে কে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন।
কারণ ভোটের মাধ্যমে শুধু একজন চেয়ারম্যান বা সদস্য নির্বাচিত হন না; নির্বাচিত হন আগামী দিনের স্থানীয় নেতৃত্বের একজন প্রতিনিধি। তাই প্রতিযোগিতা হোক—তবে তার কেন্দ্রে থাকুক যোগ্যতা, সততা, জনসম্পৃক্ততা ও জবাবদিহি





