
মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, গ্রেফতার ব্যক্তিদের মুক্তি ও প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকার দাবি
মোমিন আলি লস্কর দক্ষিণ ২৪পরগনা:-
রেজিনগর, নন্দীগ্রাম ও ভাঙড়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা সন্ত্রাস ও জুলুমের অভিযোগের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় মানবাধিকার কর্মী হোসেন গাজীর নিজ বাড়িতে একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে একাধিক বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন তিনি।হোসেন গাজীর অভিযোগ, নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী এবং রেজিনগরে নির্দল প্রার্থী-সহ দুই বিধানসভা এলাকায় অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে হুমকি ও ভয় দেখাচ্ছে। তিনি এই অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
তাঁর আরও দাবি, বিভিন্ন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তাঁদের অবিলম্বে মুক্তি এবং রেজিনগরের সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি পর্যালোচনা ও প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।
এছাড়াও যাদবপুর থানার সামনে পুলিশের উপস্থিতিতে কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা নেত্রীদের আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ এবং ভাঙড়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রদের আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হোসেন গাজী। এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি দোষ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও অশান্তির পরিবেশ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে বিভিন্ন সংগঠনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে মানুষের শান্তি, সম্প্রীতি ও অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কলকাতা হাইকোর্ট, পুলিশ কমিশনার এবং রাজ্যের প্রশাসনিক দফতরগুলির কাছে সংবিধান ও আইনের মর্যাদা বজায় রেখে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন সংগঠন ও বুদ্ধিজীবীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান হোসেন গাজী। অসুস্থ শিশুর চিকিৎসায় আর্থিক সহযোগিতার আবেদন সাংবাদিক সম্মেলনের পাশাপাশি অসুস্থ এক শিশুর চিকিৎসার জন্য মানুষের কাছে আর্থিক সহযোগিতার আবেদন জানান হোসেন গাজী।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর থানার অন্তর্গত হারদহ অঞ্চলের কুরালি বাজার এলাকার বাসিন্দা সনদ দাসের ছোট্ট শিশু গুরুতর রোগে আক্রান্ত। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশুটির চিকিৎসায় বিপুল অর্থের প্রয়োজন।হোসেন গাজী শিশুটির বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন এবং নিজের পক্ষ থেকেও আর্থিক সহযোগিতা করেন। পাশাপাশি শিশুটির চিকিৎসা যাতে অর্থের অভাবে বন্ধ না হয়, তার জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।





