
ফমেকে সিজারিয়ানের পর অসুস্থতা, ঢামেকে বিথীর মৃত্যু।
মামুন মিঞা
ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের তমিজউদ্দীন মৃধাপাড়ার বিথী আক্তার (২৭) ঢাকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে তার মৃত্যু হয়।
বিথী আক্তার ওই এলাকার ছোরাপ মন্ডলের মেয়ে। তিনি পেশায় একজন ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ ছিলেন। স্বামীর সঙ্গে গোয়ালন্দের জামতলা হাট এলাকায় বসবাস করতেন।
পরিবারের অভিযোগ, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর থেকেই বিথী আক্তার নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। পরিবারের দাবি, ওই অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসক ডা. তামান্না ও ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. অরবিন্দের মাধ্যমে তার অপারেশন করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর তার পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছে পরিবার।
পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিথীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একপর্যায়ে তিনি সিসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রায় চার মাস ধরে অসুস্থ থাকার কারণে বিথী তার নবজাতক সন্তানকে স্বাভাবিকভাবে কাছে নিতে পারেননি। সন্তানকে কোলে নেওয়া কিংবা দুধ খাওয়ানোর মতো শারীরিক অবস্থাতেও ছিলেন না তিনি।
পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা ভুল হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের জবাবদিহিতা এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
পরিবার জানায়, বিথীর চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র ও আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট তাদের কাছে রয়েছে। চিকিৎসার বিষয়ে বিথী নিজেও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের নাম উল্লেখ করেছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন।
তবে চিকিৎসায় অবহেলা বা অস্ত্রোপচারের সময় পেটে গজ থাকার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা নথি ও বিশেষজ্ঞ মতামত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিথী আক্তারের মৃত্যুতে তার পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।





