
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার এনসিপির সদস্য সচিব কে প্রাণ নাশের হুমকি
মোঃ মেহেদী হাসান বিজয় ২৪ টিভি
সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের সালথায় জমি নিয়ে বিরোধে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সজিব মিঞাকে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়েছে আওয়ামীলীগ নেতা ইকরাম মোল্যা। শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের যোগারদিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ইকরাম মোল্যা স্থানীয় মৃত জলিল মোল্যার পুত্র ও স্থানীয় আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা। ইকরাম মোল্যার চাচা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পরিবারের সবাই আওয়ামী পন্থী। এই বিষয়ে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সালথা থানায় জিডি করেছেন ভুক্তভোগী সজিব মিঞা।
ভুক্তভোগী এনসিপি নেতা সজিব মিঞা জানান,
সোনাপুর ইউনিয়নের একটি জমি নিয়ে বিগত দেড়-দুই বছর আগে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ইকরাম মোল্যা ও সোনাপুর ইউনিয়ন কৃষকলীগ এর সভাপতি শাহজাহান শেখ ফরিদপুর সদরের মজিবর রহমান উকিল এর চেম্বার থেকে আমাকে প্রাণে মারার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে আমি জুলাই এর পক্ষে সক্রিয় থাকায় এবং সালথা উপজেলার এনসিপির সদস্য সচিব হওয়ায় উক্ত ব্যক্তিগণ নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামীলীগ এর লোক আমার উপর বিভিন্ন সময়ে অন্যায়ভাবে গালিগালাজ ও হামলা করার চেষ্টা করে।
গত ২৬ জুন আমার একটি জমি পরিমাপ করতে গেলে উক্ত ব্যক্তিগন পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক জমি পরিমাপকে কেন্দ্র করে বারবার আমাকে মারার জন্য তেড়ে আসে। আমি পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দ্রুত আমার স্ত্রী এবং কন্যাকে রিজার্ভ অটোতে করে স্থান ত্যাগ করানোর পর আমি হোন্ডা নিয়ে রওনা দিলে ইকরাম মোল্যার হুকুমে মোঃ ছিরু শিকদার আমার গাড়ির সামনে এসে দাড়ায় এবং আমাকে মারার চেষ্টা করে ও হুমকি প্রদান করে।
পরবর্তীতে ইকরাম মোল্যার নির্দেশে ঐখানে উপস্থিত আওয়ামীলীগ এর সৈরাচারগণ আমাকে চারদিক থেকে আটকে দেয় এবং আমি দলিল গ্রহীতার নিকট বকেয়া যে চার লক্ষ টাকা পাবো (যাহা দলিলের কয়েকদিনের মধ্যেই ব্যাংকে প্রদান করার কথা ওয়াদা ছিলো) এই টাকা মাফ করে দেওয়ার জন্য আমাকে চাপ প্রদান করে এবং উক্ত টাকার না দাবীর স্বর্তে আমাকে তারা ছেড়ে দেয় এবং পরবর্তীতে আমি সালথা চলে আসি এবং থানায় জিডি করি। তবে জিডি করার ৩ মাস পার হলেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। আমি সব সময় আতঙ্কে দিন পার করছি।
এই বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ইকরাম মোল্যার নম্বরে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই। পরবর্তীতে তাকে আবার ফোন দিলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সালথা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবুলুর রহমান খান জানান, এনসিপি নেতাকে প্রাণনাশের হুমকির বিষয়টি জানতে পেরে আমরা একটা সাধারণ ডায়রি গ্রহন করি। এসআই শওকত হোসেন সাধারণ ডায়েরিটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এসআই শাখায়াত হোসেন কে বলা হয়। তবে তিনি অন্যত্র বদলি হওয়ায় এটি এসআই মহিবুল্লাহ কে তদন্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে আমাদের আইনগত ব্যবস্থা পক্রিয়াধীন রয়েছে।





