
সদরপুরে ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, দুই নারী গ্রেপ্তার
মামুন মিঞা
ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি
ফরিদপুরের সদরপুরে এক মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীকে একটি মাদ্রাসার কক্ষে আটকে রেখে মারধর, নগদ টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং পরে আরও টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিরা পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কদমতলা এলাকার খাদিজাতুল কোবরা মাদ্রাসার তৃতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ওই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামের সুমনের স্ত্রী অঞ্জনা আক্তার (২৫) এবং ঢেউখালী ইউনিয়নের বক্সডাঙ্গী গ্রামের মনির মাতুব্বরের স্ত্রী মালা আক্তার (১৯)।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ইব্রাহীম খান (২৮) অভিযোগ করেন, অঞ্জনা তাঁর কলেজজীবনের পরিচিত। কয়েক দিন আগে অঞ্জনা তাঁকে মালা আক্তারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর মালার সঙ্গে মুঠোফোনে মাঝেমধ্যে কথা হতো তাঁর।
ইব্রাহীমের ভাষ্য, গত ২০ অক্টোবর রাতে অঞ্জনার ডাকে তিনি মাদ্রাসার একটি কক্ষে যান। সেখানে আগে থেকেই মালা আক্তার ছিলেন। পরে মালাকে কক্ষে রেখে বাইরে যাওয়ার কথা বলে অঞ্জনা বেরিয়ে যান এবং বাইরে থেকে দরজা আটকে দেন।
এর কিছুক্ষণ পর অঞ্জনার স্বামী সুমনসহ ১০ থেকে ১২ জন যুবক কক্ষে ঢুকে তাঁকে আটকে রেখে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন ইব্রাহীম। এ সময় তাঁর মুঠোফোন ও নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাঁর কাছে আরও দেড় লাখ টাকা দাবি করা হয়। তাঁর দাবি, এভাবে তাঁকে প্রায় ১৮ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছিল।
ইব্রাহীম জানান, পরে তিনি কৌশলে মুঠোফোনের মাধ্যমে তাঁর আত্মীয় সোহেল মোল্যাকে টাকা নিয়ে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। তবে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সোহেল সদরপুর থানায় খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। এ সময় সুমনসহ অন্যরা পালিয়ে যান। পরে পুলিশ অঞ্জনা আক্তার ও মালা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে এবং ইব্রাহীমকে উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ইব্রাহীম খান অঞ্জনা আক্তার, তাঁর স্বামী সুমন ও মালা আক্তারসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে সদরপুর থানায় অভিযোগ করেন।
সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ্ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। দুই নারীকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।





