
সরকারি ছুটির দিনে সরকারি গাড়ির ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন, যশোরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি ড্রাইভার।
যশোর প্রতিনিধি :
রফিকুল ইসলাম সবুজ
সরকারি ছুটির দিনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াই একটি সরকারি গাড়ির চলাচলকে কেন্দ্র করে উঠেছে নানা প্রশ্ন। যশোরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে গাড়ির চালকের অসংলগ্ন বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে অপারগতা আরও বাড়িয়েছে রহস্য। বিস্তারিত থাকছে যশোর প্রতিনিধির পাঠানো তথ্যচিত্রে।
১লা আগস্ট, শনিবার, সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে যশোর শহরের মনিহার এলাকার একটি তেল পাম্পের সামনে ঢাকা মেট্রো-ঠ-১৩-৪৪৩২ নম্বরের একটি সরকারি গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন কয়েকজন সাংবাদিক।
এ সময় গাড়ির চালকের কাছে জানতে চাওয়া হয়, সরকারি ছুটির দিনে কী কারণে গাড়িটি বাইরে আনা হয়েছে।
প্রথমে চালক জানান, গাড়িতে তেল নেওয়ার জন্য তিনি সেখানে এসেছেন।
কিন্তু সাংবাদিকরা তেল ক্রয়ের রশিদ দেখতে চাইলে চালক জানান, তার কাছে কোনো রশিদ নেই। এমনকি তিনি দাবি করেন, তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাকে কোনো রশিদ নিতে বলেননি।
এরপর প্রশ্ন ওঠে, তেলের ক্রয় রশিদ ছাড়া সরকারি দপ্তরে কীভাবে জ্বালানি বিল বা ভাউচার সমন্বয় করা হবে? এ প্রশ্নেরও স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি চালক।
পরে সাংবাদিকরা চালকের কাছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নাম ও যোগাযোগ নম্বর জানতে চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে তিনি দ্রুত গাড়িতে উঠে মোবাইল ফোনে কথা বলতে শুরু করেন।
কিছুক্ষণ পর গাড়ি থেকে নেমে চালক জানান, গাড়িটি সাতক্ষীরার একটি সরকারি অফিসের।
তবে এখানেই দেখা দিয়েছে নতুন প্রশ্ন। যদি গাড়িটি সাতক্ষীরার কোনো সরকারি দপ্তরের হয়, তাহলে জ্বালানি নেওয়ার জন্য সেটি কেন যশোরে আনা হলো? এ বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা মেলেনি।
সরকারি গাড়ির ব্যবহার, জ্বালানি ক্রয় এবং সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিদ্যমান বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কি না—সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হবে। প্রয়োজনে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
তবে সুনির্দিষ্ট ভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম এবং মোবাইল নাম্বার না দেওয়াতে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।





