
এন্ডোস্কপি চালু হলো কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে, এখন চাই নিয়মিত ও হয়রানিমুক্ত সেবা
মোঃ জাফর আহমেদ কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতাঃ১৩,আগস্ট ২৬বৃহস্পতিবার
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চালু হয়েছে এন্ডোস্কপি সেবা। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ সেবা চালুর মধ্য দিয়ে জেলার সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় যুক্ত হলো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিশেষায়িত পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ। এতে পাকস্থলী ও পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ে জেলার রোগীদের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এতদিন এন্ডোস্কপি পরীক্ষার প্রয়োজন হলে কুড়িগ্রামের অনেক রোগীকেই রংপুরসহ জেলার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতাল ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যেতে হতো। এতে পরীক্ষার খরচের পাশাপাশি যাতায়াত, থাকা-খাওয়াসহ নানা ধরনের অতিরিক্ত ব্যয় ও ভোগান্তি পোহাতে হতো রোগী ও স্বজনদের। সদর হাসপাতালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় এ সেবা চালু হওয়ায় সেই দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি দ্রুত রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তাদের প্রত্যাশা, উদ্বোধনের পর কিছুদিন সেবা দিয়ে কার্যক্রম যেন থেমে না যায়। নিয়মিত এন্ডোস্কপি পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ, দক্ষ জনবল ও পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিশ্চিত করে সেবাটি ধারাবাহিকভাবে চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
কুড়িগ্রামের মতো সীমান্তবর্তী ও তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকা জেলার মানুষের জন্য জেলা পর্যায়ে সরকারি হাসপাতালে বিশেষায়িত পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ সৃষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে রোগীদের সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি জেলা হাসপাতালের চিকিৎসা সক্ষমতাও বাড়বে। একই সঙ্গে হাসপাতালে বিদ্যমান চিকিৎসক সংকট দ্রুত নিরসনের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নুর নেওয়াজ আহমেদ বলেন, বিশেষ করে পাকস্থলী ও পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন জটিলতা শনাক্ত করতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এন্ডোস্কপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে এ ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা চালু হওয়ায় দ্রুত রোগ নির্ণয় ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার সুযোগ আরও বাড়বে।
তবে নতুন এই সেবা নিয়ে মানুষের প্রত্যাশার পাশাপাশি রয়েছে কিছুটা শঙ্কাও। স্থানীয়দের অভিযোগ, কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা নিয়ে অতীতে নানা ধরনের অভিযোগ উঠেছে। ফলে এন্ডোস্কপি সেবাও যেন নিয়মিত না থেকে কিছুদিন পর বন্ধ হয়ে না যায়—এটাই তাদের প্রধান আশঙ্কা।
রোগীদের দাবি, এন্ডোস্কপি করতে এসে কোনো রোগী বা স্বজনকে যেন অযথা হয়রানি, দীর্ঘসূত্রতা কিংবা অতিরিক্ত ভোগান্তির শিকার হতে না হয়। সরকারি এই সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের জন্য স্বচ্ছ, সহজ ও হয়রানিমুক্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, প্রশিক্ষিত জনবল ও চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করে সেবাটিকে টেকসই করতে হবে।
সচেতন মহলের মতে, কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে এন্ডোস্কপি সেবা চালু নিঃসন্দেহে ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে শুধু যন্ত্রপাতি স্থাপন ও উদ্বোধনের মধ্যেই এর সাফল্য সীমাবদ্ধ নয়। রোগীরা নিয়মিত, মানসম্মত ও হয়রানিমুক্ত সেবা পাচ্ছেন কি না—সেটিই হবে এই উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্যের মাপকাঠি। তাই স্বাস্থ্য বিভাগ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উচিত সেবাটি নিয়মিত চালু রাখা এবং যেকোনো অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।





