
নড়াইল প্রেস ক্লাব থেকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা টুকু বহিষ্কার
মো তুহিন মোল্লা
নড়াইল প্রতিনিধি ;
নড়াইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সদস্য এনামুল কবীর টুকুর মুক্তিযোদ্ধা সনদ যাচাই-বাছাই শেষে বাতিল হওয়ায় তাকে প্রেসক্লাব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নড়াইল প্রেসক্লাবের সভাপতি আইনজীবী এস. এম. আব্দুল হক।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নড়াইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সভায় সদস্যদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে, নড়াইলের ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা এনামুল কবির টুকুর মুক্তিযোদ্ধার গেজেট (গেজেট নাম্বার ২৬৪) বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
প্রেসক্লাব সূত্র জানায়, জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কাগজপত্র তৈরি করে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হওয়ার অভিযোগে এনামুল কবীর টুকুর মুক্তিযোদ্ধা সনদ যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে জামুকা তার সনদ বাতিল করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নড়াইল প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাধারণ সভায় তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মুক্তিযোদ্ধা তবিবর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করেছি নড়াইলের যত ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হয়েছে তাদের গেজেট বাতিল করা হোক। অবশেষে টুকুসহ নড়াইলে চারজনের গেজেট বাতিল হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে সরকারকে অভিনন্দন জানাই। আমরা পরবর্তীতে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে বাকি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট বাতিল করতে চেষ্টা করব।
নড়াইলের সন্তান আমেরিকান প্রবাসী নেওয়াজ মাহমুদ ভিকু বলেন, আমি দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা এনামুল কবির টুকুর বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে আসছি। পাঁচ বছর পরে সাফল্য এসেছে।
সাংবাদিক ও তরুণ লেখক মিনহাজুল ইসলাম বলেন, এনামুল কবির টুকুকে একদিন একটি প্রোগ্রামের দাওয়াত দিয়েছিলাম। দাওয়াতপত্রে ত্রুটি রয়েছে উল্লেখ করে টুকু সেদিন দুর্ব্যবহার করে। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই কুখ্যাত ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল হোক। আজ সে দাবি পূরণ হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিলের বিষয়ে এনামুল কবির টুকু বলেন, আমি এ বিষয়ে আদালতে যাব।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম বলেন, এনামুল কবির টুকু মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার বিষয়ে অভিযোগ হওয়ায় যাচাই-বাছাই করে তদন্ত করে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছিল। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তার মুক্তিযোদ্ধা গেজেট বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল।





