
রুকনদের সমকালীন নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সতর্ক ও কৌশলী ভূমিকা পালন করতে হবে: মাওলানা আবদুল হালিম
দিনাজপুরে জামায়াতের বার্ষিক রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত, অংশ নিলেন প্রায় দুই হাজার রুকন ও ডেলিগেট
মোয়াজ্জেম সরকার রুবেল
দিনাজপুর প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম বলেছেন, “জামায়াতে ইসলামী ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক দেশ গঠনে নেতৃত্ব তৈরি করছে। ক্ষমতার স্বাদ গ্রহণ নয়, বরং দেশ গঠন ও মানবতার কল্যাণের জন্যই আমাদের রাজনীতি।”
তিনি বলেন, বিগত দিনে অসংখ্য নেতাকর্মীর নিরলস পরিশ্রম, ত্যাগ ও কুরবানির ফলে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দলের আসনে সমাসীন হয়েছে। দেশকে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত করে জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে জামায়াত বদ্ধপরিকর।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে দিনাজপুর শহরের নাজমা গার্ডেন কমিউনিটি সেন্টারে দিনাজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত বার্ষিক সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে ২০২৭-২৮ কার্যকালের জেলা আমির নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, বাংলাদেশে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য জামায়াতের সদস্যরা (রুকন) প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দ্বীন প্রতিষ্ঠার ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় দাওয়াত ও তাবলিগ, সংগঠন ও শৃঙ্খলা, নৈতিক প্রশিক্ষণ, সমাজসেবা এবং রাষ্ট্র সংস্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী ভূমিকা পালন করে আসছে।
তিনি আরও বলেন, সমকালীন সময়ে রুকনদের নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সতর্ক ও কৌশলী ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে সংগঠনের শৃঙ্খলা সমুন্নত রাখতে রুকনদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংগঠনের সব দায়িত্বশীল ও রুকনকে ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে সামাজিক পরিসরের সর্বত্র ইলম ও আমলের প্রতিফলন ঘটাতে হবে। শুধু সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বরং মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো, অসহায় মানুষের সহযোগিতা করা এবং সমাজের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখাও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
আত্মগঠন ও দাওয়াতি কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, প্রত্যেক রুকনকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মানুষের কাছে ইসলামের সুমহান আদর্শ তুলে ধরতে হবে। সততা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। আল্লাহ ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শের বার্তা দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সংগঠনের সর্বস্তরের দায়িত্বশীলদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
দিনাজপুর জেলা জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও দিনাজপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাদ্দিস ডক্টর এনামুল হক।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নীলফামারী জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার এমপি, চিরিরবন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও দিনাজপুর জেলা জামায়াতের সাবেক আমির আফতাব উদ্দীন মোল্লা, দিনাজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি রাজিবুর রহমান পলাশ এবং সহকারী সেক্রেটারি সাইদুল ইসলাম সৈকত।
সম্মেলনে দিনাজপুর জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের পুরুষ ও মহিলা মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার রুকন ও ডেলিগেট অংশগ্রহণ করেন।





