
শতবর্ষের গৌরবময় অধ্যায়; কুঁড়েঘর থেকে আজকের জামিয়া।
মুহাম্মদ মিজান ফয়েজী
ছাত্র:- আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুস সুন্নাহ হ্নীলা, টেকনাফ।
শত বছরের ইলম, আমল ও দ্বীনি খেদমাতের এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস
আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুস সুন্নাহ হ্নীলা, টেকনাফ, কক্সবাজার।
সময়ের স্রোত বয়ে চলেছে আপন গতিতে। দেখতে দেখতে পূর্ণ হলো এক ঐতিহাসিক ও গৌরবময় ক্ষণ—আমাদের প্রিয় দ্বীনি দরসেগাহ্ আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুস সুন্নাহ হ্নীলা-এর শতবর্ষ। দীর্ঘ পথপরিক্রমায় এই জামিয়া আজ শতবর্ষের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে, বহন করছে অসংখ্য স্মৃতি, ত্যাগ, সাধনা ও দ্বীনি খেদমাতের এক সমৃদ্ধ ইতিহাস।
ব্রিটিশ আমলে একটি সাধারণ কুঁড়েঘরে পবিত্র কুরআনের হরফ আলিফ-বা এর প্রথম পাঠদানের মধ্য দিয়ে যে দীনি শিক্ষার যাত্রা শুরু হয়েছিল, আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমত ও মেহেরবানিতে সেই ক্ষুদ্র উদ্যোগ সম্প্রসারিত হয়ে আজ এক সুপরিচিত দীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। একসময় বাঁশের বেড়ায় ঘেরা ক্লাস রুমে যে দ্বীনি শিক্ষার সূচনা হয়েছিল, আজ সেই জামিয়ার প্রাঙ্গণে প্রতিনিয়ত ধ্বনিত হয় পবিত্র হাদিসের দরস—‘قال حدثنا’ (ক্বালা হাদ্দাসানা)। এ যেন শত বছরের ইলমি সাধনা, দীনি ঐতিহ্য ও নিরবচ্ছিন্ন খেদমাতের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
১৯২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দীনি প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আজ শতবর্ষের ঐতিহাসিক মাইলফলকে উপনীত হয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্মকে ইলমে দীনের আলোয় আলোকিত করে এই জামিয়ার শিক্ষা, আদর্শ ও অবদান ছড়িয়ে দিয়েছে দূর-দূরান্তে। অসংখ্য আলেম, হাফেজ ও দীনের খাদেম গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অর্জন করেছে স্বতন্ত্র পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা।
এই গৌরবময় শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে আগামী ২৫ ও ২৬ নভেম্বর ২০২৬ ইং অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জামিয়ার বর্ণাঢ্য শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান। এই মহিমান্বিত আয়োজনকে সফল, সুশৃঙ্খল ও স্মরণীয় করে তুলতে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
জামিয়ার ক্যাম্পাসকে সুসজ্জিত করা, দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা প্রাক্তন ছাত্র, সম্মানিত উস্তাদ, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং দীনপ্রিয় মুসলিম উম্মাহর কাছে দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া, প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা, বিভিন্ন এলাকায় প্রস্তুতি কমিটি গঠন এবং আগত মেহমানদের আপ্যায়নের সুব্যবস্থা—সব মিলিয়ে চলছে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। প্রত্যেকের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সম্মিলিত সহযোগিতায় শতবর্ষের এই মাহেন্দ্রক্ষণ হয়ে উঠবে ইতিহাসের স্মরণীয় এক অধ্যায়, এটাই সবার প্রত্যাশা।
আলহামদুলিল্লাহ! এই মহতী আয়োজনের সার্বিক কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন জামিয়ার সম্মানিত নির্বাহী পরিচালক হযরত মাওলানা আজিজুল হক হাফিজাহুল্লাহ এবং জামিয়ার সম্মানিত আসাতিযায়ে কেরাম। তাঁদের নিরলস পরিশ্রম ও আন্তরিকতায় এই আয়োজনকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। মহান আল্লাহ তাআলা তাঁদের সকল খেদমাত কবুল করুন।
এই ঐতিহাসিক আয়োজনকে আরও তাৎপর্যমণ্ডিত ও প্রাণবন্ত করে তুলতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার ইচ্ছে পোষণ করে ইতিমধ্যে জামিয়ার দাওয়াত গ্রহণ করেছেন-বিশ্ববিখ্যাত দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম ও শাইখুল হাদিস, পীরে কামেল আল্লামা আবুল কাসেম নোমানী হাফিজাহুল্লাহ। এ ছাড়াও উপস্থিত থাকবেন দেশ-বিদেশের বরেণ্য ওলামায়ে কেরাম, বিশিষ্ট দীনি ব্যক্তিত্ব।
শতবর্ষ কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের বয়সের হিসাব নয়; এটি শত বছরের ত্যাগ, সাধনা, ইলমি ঐতিহ্য, দীনি অবদান এবং অসংখ্য মানুষের ভালোবাসার এক মহিমান্বিত স্মারক। তাই এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণে উপস্থিত থাকা মানে শুধু একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা নয়; বরং একটি গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের অংশীদার হওয়া এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে থাকা।
অতএব আপনার আমাদের জামিয়ার পক্ষ হতে বিশেষ দাওয়াত রইলো।





